• ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রূপগঞ্জের সমকামী ফারজানা প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়রণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দেবই উত্তরপাড়া গ্রামের সমকামী ফারজানা প্রাণ বাঁচাতে মা-বাবা ও দুটি শিশু সন্তানকে রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সমকামী ফারজানাকে নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর ২০২০ একুশেডটনেট অনলাইন পত্রিকায় ‘‘রূপগঞ্জে সমকামী মহিলাকে নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ।। ইসলামী মৌলবাদীদের হুমকী’’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি স্থানীয় এলাকাসহ গোটা নারায়রণগঞ্জে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নিরাপত্তাহীনতায় চরম আতংকের মধে গৃহবন্ধি থাকা সমকামী সেই ফারজানা গত ২ ফেব্রæয়ারি ২০২১ রাতের আঁধারে সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি এলাকার ইসলামী কট্টরপন্থী মৌলবাদী একটিদল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই খবর পাওয়ার পর সে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে ফারজানার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় তিন মাস স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত ফারজানা পিতার বাড়ি স্থানীয় দেবই উত্তরপাড়া গ্রামে গৃহবন্ধি অবস্থায় অমানবিক অবস্থায় চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এলাকার মৌলবাদী ইসলামী কট্টরপন্থী একদল লোক ইতিপূর্বে ফতোয়া দিয়েছিল ফারজানাকে হত্যা করে গ্রামকে ধর্মীয় পাপ থেকে মুক্ত করার। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছিল। এরপর থেকে ফারজানা পিতার বাড়িতে গৃহবন্ধি ছিল। সম্প্রতি এলকার ঐ ইসলামী মৌলবাদী গ্রুপটি ফারজানাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই খবর জানতে পেরে প্রাণ বাঁচাতে সে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে ১০ ও ৭ বছরের দুটি অবুঝ শিশু এবং মা-বাবাকে ছেড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। পরদিন এই খবর প্রকাশের পর গ্রামের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রগতিশীল অনেকেই বলছেন মেয়েটিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে এলাকার মৌলবাদী গ্রুপটি। আবার মৌলবাদী গ্রুপটি এই ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা ফারজানার পরিবারের সদস্যদের অকথ্যভাষায় গালাগালি, মানসিক নির্যাতন করাসহ নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে। তাদের দাবী সমকামীতার মধ্য দিয়ে ফারজানা ধর্মচ্যূত কাফির হয়ে মহাপাপী হয়ে গেছে। তাই ফারজানাকে হত্যা করা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব ছিল। এই কাজ করতে না পারা গ্রামবাসীর জন্য ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে চরম অবজ্ঞার সামিল। ধর্মান্ধ ইসলামী মৌলবাদী ঐ গ্রুপটি প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে বলছে, ফারজানাকে যেদিন যেখানে তারা পাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করে ধর্মীয় পাপ মোচন করবে।

এ বিষয়ে ফারজানার পিতা ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে গ্রামের মৌলবাদী ঐ গ্রুপটির ভয়ে তিনি মিডিয়ার সাথে কোন বলতে রাজি হননি। শুধু নীরবে চোখের পানি ফেলেতে দেখা গেছে।