
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ব্রাদার্স ফার্মেসী নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১২ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে। এ হামলায় ব্রাদার্স ফার্মেসির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ব্রাদার্স ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সাজন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ তাহার উপর বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত সাজন মিয়া একাধিকবার পুলিশের কাছে গিয়েও কোন ধরনের সহযোগিতা পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সিলেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গত ২১ মার্চ রাতে ফার্মাসিস্ট ব্যবসায়ী মো. সাজন মিয়া’র মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ব্রাদার্স ফার্মেসিতে আসেন। বিধান কুমার সাহা তিনি সাজন মিয়াকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে নির্দেশ দেন। এ সময় সাজন মিয়া চাঁদা হিসাবে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় বিধান কুমার সাহার সংঙ্গে থাকা অপর সন্ত্রাসী ক্যাডার পিস্তল বের করে হুমকি দেয়। তখন সাজন মিয়া তাদের ভয়ে, প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে রাজি হন। বিধান কুমার সাহা’র এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সিলেটে এখনএ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে একই ভাবে চলতি মাসের ৩ আগস্ট বেশ কয়েকজন দলীয় ক্যাডার নিয়ে বিধান কুমার সাহা ব্রাদার্স ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসিতে এসে বিধান কুমার সাহা সাজন মিয়াকে ফার্মেসি বন্ধ করতে বলেন। তাদের কথামত ফার্মেসি বন্ধ করার পর বিধান কুমার সাহা সাজন মিয়াকে জানান, আগামী ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বিশাল বড় একটি অনুষ্ঠান করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে সাজন মিয়া ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এ সময় সাজন এত বড় অংকের চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন বিধান কুমার সাহা ক্ষিপ্ত হয়ে জানায়, তাদের নিয়মিত মাসিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা এখনই পরিশোধ করতে। তখন সাজন মিয়া দোকান খুলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা পরিশোধ করার সময় বিধান কুমার সাহার দলীয় ক্যাডাররা ক্যাশে থাকা নগদ ৮৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
সূত্র আরো জানায়, সর্বশেষ গতকাল ১২ আগস্ট বিধান কুমার সাহা’র নেতাকর্মীরা সাজন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে। দোকানে সাজন মিয়া না থাকায় কর্মচারীরা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করে। এ সময় দলীয় ক্যাডারা ব্রাদার্স ফার্মেসিতে হামলা ও ভাংচুর চালায় এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বড়ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে গত ৭ আগস্ট রাতে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় সাজন মিয়া উপস্থিত হয়ে চাঁদাবাজি, হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি লিখিত আকারে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশের এসআই জামাল হোসেন তা গ্রহন করতে অস্বীকার করেন।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী সাজন মিয়া বলেন, আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমি তাকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দেই। তারপরও আমার কাছে আরো ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি টাকা না দেওয়ায়, আমার ফার্মেসিতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমি একাধিকবার পুলিশের নিকট গিয়েও কোনো বিচার পাইনি। উল্টো পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করার হুমকি দেয়। বিধান কুমার সাহা সরকার দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় আমি কোনো বিচার পাইনি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সিলেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা’র ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মঈন উদ্দিন জানান, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে ব্রাদার্স ফার্মেসিতে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে কেন আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302