সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীতে ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ব্যবসায়ী ও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং জমি—সংক্রান্ত বিরোধে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সুজেল আহমদ—এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার আহমদ রাহী, সাগর, জাহিদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর দরগা মহল্লা এলাকার একজন নির্মাণাধীন ভবনের মালিক অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার পর কয়েকজন যুবক তার কাছে এসে চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী বলেন, আমি নিজের জায়গায় ভবন নির্মাণ করছি। কাজ শুরু করার পর কয়েকজন এসে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। তার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান।
নগরীর আখালিয়া এলাকায় জমি—সংক্রান্ত বিরোধেও একই গোষ্ঠীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষের হয়ে চাপ সৃষ্টি এবং জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধ চলছে। কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করছেন। তারা রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী হওয়ায় অর্থের বিনিময়ে আমার বিরোধী পক্ষের হয়ে প্রভাব খাটিয়ে জমির নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে হস্তান্তর করে এবং আমাদেরকে হুমকি প্রদান করে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে খুন করে ফেলবে। এ ঘটনায় আমরা অসহায় হয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।
নগরীর কয়েকটি এলাকায় স্কুল—কলেজগামী তরুণী ও নারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কয়েকটি স্পটে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কিছু তরুণ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় চলাফেরা করে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ আমরা বিভিন্ন সময় শুনেছি। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটে। আরেকজন স্থানীয় চা বিক্রেতার ভাষ্য, মাদকের ব্যাপারটিও নতুন নয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিছু এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযুক্তদের সাহস বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুজেল আহমদ, শাহরিয়ার আহমদ রাহী, সাগর ও জাহিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায় নি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিতে পারে না। অভিযোগগুলো সঠিক হলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302