
দিরাই প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় (১৩ নভেম্বর ২০২৩) তারিখ দুপুর আনুমানিক ০১ টা ২০মিনিটে হরতাল চলাকালে সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি, যান চলাচল বন্ধ এবং জনস্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলা আসামীরা হলেন-১. মোঃ মাসুক মিয়া (৫২), পিতা-মৃত ধন মিয়া, স্থায়ী গ্রাম-সাকিতপুর, ২. আব্দুল ওদুদ (৪৬), পিতা-আব্দুল খালিক, গ্রাম-নতুন কর্ণগাঁও, ৩. আব্দুর নুর (৩৯), পিতা- আব্দুল কুদ্দুস, গ্রাম-নোয়াগাঁও, ৪. হাবিবুর রহমান (৬১), পিতা-আব্দুল কাদির, গ্রাম-চান্দিপুর, ৫. মোঃ তোফায়েল আহমদ (২১), পিতা-মোঃ শরিফ উদ্দিন, গ্রাম-পশ্চিম চান্দিপুর, ৬. মোঃ গোলাপ মিয়া (৪৭), পিতা-তোতা মিয়া, গ্রাম-শ্যামারচর, ৭. মহিউদ্দিন মিলাদ (৩৮), পিতা- আসাব উদ্দিন, গ্রাম-কুলঞ্জ, ৮. মোঃ সুমন মিয়া (৩৪), পিতা-আব্দুর রউফ, গ্রাম-চন্ডিপুর, ৯. আবুল হাসান চৌধুরী (৩৫), পিতা-আকলুছ মিয়া, গ্রাম-তাড়ল, ১০. জাকারিয়া (৩০), পিতা- মৃত শরাফত উল্লা, গ্রাম-চন্ডিপুর, ১১. পাবেল মিয়া (৩০), পিতা-শাহ আলম, গ্রাম-রণভূমি, ১২. শাহদ্বীপ আলী (৪০), পিতা-বানাছ উদ্দিন, গ্রাম-আলীনগর, ১৩. জয়নাল মিয়া (২৪), পিতা- শাহ আলম, গ্রাম-রণভূমি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানা সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ঐইদিন দুপুরের দিকে দিরাই পৌরসভাধীন আনোয়ারপুর উওরহাটি গ্রামস্থ জনৈক মোঃ ফয়জুর রহমান (৪০), পিতা-মৃত তৈয়ব আলী এর বাড়ির পূর্ব পাশে দিরাই টু সুনামগঞ্জ গাড়ী পাকা রাস্তার উপর ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে হরতাল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষুব্ধরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পোড়া টায়ার ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ঘটনার পর দিরাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই নিরস্ত্র মোঃ আমির হোসেন, বিপি- ৮৪০৩০৩৮২৯১, বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছেন। সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাম উল্লেখ করা ১৩ জন ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের ওপর আগুন জ্বলতে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে পারেননি। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় রোগী বহনসহ জরুরি সেবায়ও বিঘ্ন ঘটে। ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এ ধরনের কর্মসূচি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আইনবিরোধী। অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ দাবি করছেন, মামলায় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302