
একুশে নিউজ ডেস্ক : সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্টে প্রকাশ্যে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলায় শামছুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গী কনাই মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। গত ১৭ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শামছুল ইসলাম বিশ্বনাথ উপজেলার আমতৈল বাজারে মেসার্স ফজল ট্রেডার্স এর মালিক ছিলেন। পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি একটি পুরনো ইয়ামাহা মোটরবাইক কিনতে সিলেট শহরে আসেন। তিনি তার গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি কনাই মিয়াকে সাথে নিয়ে বন্দর বাজার থেকে আম্বরখানার দিকে যাচ্ছিলেন। চৌহাট্টা পয়েন্টে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রায় ১৪-১৫ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের পথ রোধ করে।
এজাহার অনুসারে, দলটি দা, চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা শামছুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে তারা তার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় রায়হান উদ্দিন নামে এক আসামী চাপাতি দিয়ে শামছুলের মাথায় আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে দুজনই দৌড় দিলে আরেক আসামী মাকছুদুর রহমান তাদের ধরে রাখে এবং রাজু আহমদ শরীরের বিভিন্নস্থানে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে। কনাই মিয়া আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, দলটি শামছুল ইসলামের দিকে মনোযোগ দেয়।
এসময় মাহমুদুল হাসান মারুফ, আব্দুল্লাহ আল তারেক, ফাহমিদ আহমদ, সৈয়দ বেলাল নূরী, আহমদ আলী, মাকনুন আহমদ, মাহিন আহমদ, আকিল আহমদ হৃদয়সহ আরও ৪/৫ জন একযোগে শামছুল ইসলামের মাথা, ঘাড়, বুক ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও মারাত্মকভাবে জখম করে। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে শামছুল ও কনাই মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামছুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। কনাই মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতের পিতা আবুল ফজল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লিখিত আসামীদের নামসহ শনাক্ত করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোঃ মঈন উদ্দিন শিপন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য। আমরা এজাহার পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আহত সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। উল্লিখিত আসামীদের সন্ধানের জন্য পুলিশ কাজ করছে। অতি শিগগিরই দোষীদের গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শামছুল ইসলাম একজন শান্তিপূর্ণ পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302