স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ১০নং চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আজিজুল হক (২৭) বর্তমানে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জীবননাশের ঝুঁকিতে রয়েছেন। একসময় যিনি এলাকায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন, আজ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছাড়ার পরও তার ও তার পরিবারের পিছু ছাড়েনি প্রতিপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের তৎকালীন দূরন্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ আজিজুল হকের একক সমন্বয় ও প্রধান পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি তার ওজস্বী বক্তব্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তবে ২০২৪ সালের দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তার দৃঢ় রাজনৈতিক পরিচয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অত্যন্ত সক্রিয় থাকার কারণে তিনি স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের চরম ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে পুলিশ বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে ৬ দিন অজ্ঞাত স্থানে ডিটেনশনে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে সৈয়দ কাইয়ুম ভূঁইয়া নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে এবং পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি সাময়িকভাবে মুক্তি পান, যা পুলিশ পরবর্তীতে আর ফেরত দেয়নি; কারণ বর্তমান পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে পলিটিক্যাল পাওয়ার বা রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জেল থেকে মুক্তির পর নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি নিজের বাসায় না ফিরে গাজীপুর সদরে অবস্থিত তার মামার বাসায় আশ্রয় নেন।
এরপর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চাঁদপুর বাজার থেকে হেঁটে পাপলা গ্রামে নিজের পৈত্রিক বাড়িতে ফেরার পথে ৫/৬ জনের একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনি চালায়। হামলাকারীরা তাকে আওয়ামী লীগের 'সক্রিয় দালাল ও উস্কানি দাতা' বলে লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ভারী বুট জুতা দিয়ে আঘাত করে হাত-পা ভেঙে দেয়। কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর, তীব্র জীবননাশের ঝুঁকিতে পড়ে তিনি বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করেন এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, সে দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাকে গ্রেফতার করে গায়েবি মামলায় জড়ানো হতে পারে, এমনকি জেলহাজতেই তার জীবননাশের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302