• ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিয়ানীবাজারে এখনও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম: এলডিপি নেতার স্ত্রী সন্তানের উপর হামলা

admin
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৫
বিয়ানীবাজারে এখনও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম: এলডিপি নেতার স্ত্রী সন্তানের উপর হামলা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : ২৪’র জুলাই গণ আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বিয়ানীবাজারে এখনো দৌরাত্ম দেখাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডাররা! পুলিশ প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দৌসরদের সহযোগীতায় এখনো বেপরোয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হচ্ছে তারা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার খশির নয়াবাড়ি গ্রামে এলডিপি নেতা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে কে মারধর করে রক্তাক্ত আহত করেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় একদল ক্যাডার। এসময় তারা প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। লোকজন আসতে দেখে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, স্থানীয় খশির নয়াবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ ছফির আহমদের পুত্র এলডিপি নেতা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পূর্ব বিরোধ ছিল দীর্ঘদিন থেকে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ঐ ক্যাডাররা তার উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল। পরে প্রাণ বাঁচাতে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে দেশ তাগ করে প্রবাসে চলে যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখনো তার পিছু ছাড়েনি, এখনো তার পরিবার আক্রান্ত হচ্ছে পুরনো শত্রæদের হামলায়? ২০২৪ এর ৫ আগস্ট গণঅভূত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেশের বেশীরভাগ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের প্রভাব কমলেও এখনো কিছু কিছু অঞ্চলে তাদের দৌরাত্ম বহাল রয়েছে। তন্মধ্যে, বিয়ানীবাজার উপজেলায়ও এখনো দোরাত্ম দেখাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডাররা! ঘটনার দিন ছিল ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। ঐদিন বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বাড়িতে আসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার নজির আহমদের নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একদল ক্যাডার। তারা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে এলডিপি নেতা মোহম্মদ জহিরুল ইসলামকে সন্ধান করে। ‘সে বাড়িতে আসে নাই প্রবাসে থাকে’, এই কথাটি জানানোর পরও সন্ত্রাসীরা পলাতক এলডিপি নেতার স্ত্রী মোছাম্মৎ ফাতেমা আক্তার কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে চড় থাপড় মেরে শারিরীক আঘাত করে। মাকে উদ্ধার করতে মেয়ে ফাতেহা ইসলাম (১২) এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা ঐ ফাতেহার পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় প্রাণের ভয়ে ভিকটিম মা ও মেয়ে চিৎকার করে। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী লোকজন ছুটে আসে। লোকজন আসতে দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও এই ধরণের ভয়াবহ ঘটনায় জনমনে তীব্র ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।