নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজার সদর থানার অন্তর্গত হিলালপুর গ্রামের কৃপাসিন্ধু সূত্রধরের মেয়ে সঞ্চিতা সূত্রধর কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে অপহৃতা সঞ্চিতা সূত্রধরের পিতা কৃপাসিন্ধু সূত্রধরের সাথে কথা বললে তিনি জানান যে, প্রতিদিন আমার মেয়ে যে সময়ে কলেজ থেকে বাড়িতে আসে সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যখন বাড়িতে আসেনি প্রথমে ভেবেছি হয়তোবা কোন কাজে একটু বিলম্ব হচ্ছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে আসার পরও যখন আমার মেয়ে বাড়িতে আসেনি তখন ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি সাথে সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাই। তখন আমার মেয়ের সন্ধানের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোন সন্ধান পাইনি। বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনসহ মেয়ের বান্ধবীদের বাড়িতে খোঁজ করেও কোন সন্ধান না পেয়ে আমাদের নির্ঘুম রাত কাটে।
আজকে সকালে আমাদের গ্রামের লোকমান মিয়া মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, আমার মেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আমাদের গ্রামের রাস্তার পাশে পড়ে আছে। সাথে সাথে আমরা সেখানে চলে যাই এবং পুলিশও চলে আসে। তাৎক্ষণিক মেয়েকে নিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই,তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন । দীর্ঘ সময় ডাক্তারদের পরিচর্যায় আমার মেয়ের জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফেরার পর কিভাবে কি হয়েছে জানতে চাইলে আমার মেয়ে বলে যে, কলেজ থেকে বের হয়ে বাড়িতে আসার জন্য একটি সিএনজিতে উঠি কিছুদূর আসার পর সিএনজিতে আরও তিনজন অপরিচিত লোক ওঠে। তারপর আমার মুখে কিছু একটা স্প্রে করে তারপর আমি আর কিছুই বলতে পারি না। আমার জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমাকে একটা রুমে বেধে মুখে কস্টিপ দিয়ে রেখেছে। সেখানে সেই তিনজন ছাড়াও শেখ আজাদ পীর ও তার চাচাতো ভাই রুজেল ও ছিল। তাদের শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি আর কিছুই বলতে পারিনি। কথা গুলো বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি খুব শীগ্রই এদের বিরুদ্ধে মামলা করব আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302