
স্টাফ রিপোর্টার : লন্ডন প্রবাসী এক তরুণী মা আজও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রেম করে বিয়ে করার “অপরাধে” তিনি নিজের পরিবার নয়, বরং শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকেই বারবার নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী হাবিবা বেগম জানান, ভালোবেসে বিয়ে করার পর থেকেই তার দাম্পত্য জীবনের শুরু হয় অশান্তির মধ্য দিয়ে। শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করার পর শাশুড়ি ফাতেমা আক্তার ও ননদ সুমাইয়া আক্তার রিমার আচরণ ক্রমেই কঠোর হতে থাকে। ছোটখাটো বিষয়েও তাকে দোষারোপ করা হতো। প্রতিবাদ করলে নেমে আসত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
তিনি দাবি করেন, একপর্যায়ে তাকে ডিভোর্স দিতে স্বামীকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি ডিভোর্সে রাজি হননি। এরপরই শুরু হয় প্রাণনাশের হুমকি। বাংলাদেশে অবস্থানকালে আইনের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ তার।
নিজের ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বামীকে নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। নতুন দেশে নতুন করে জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে ও তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
একজন মা হিসেবে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। প্রতিটি ফোন কল, প্রতিটি অচেনা বার্তা তার মনে নতুন করে ভয় জাগায়।
হাবিবা বেগম সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে তার এবং তার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ন্যায়বিচার চান—শুধু নিজের জন্য নয়, এমন সব নারীর জন্য, যারা ভালোবাসার জন্য আজও নির্যাতনের শিকার।