
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : জকিগঞ্জের মাইজগ্রামে আব্দুল মুকিত নামের এক কনস্ট্রাকশন কন্ট্রাকটরের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদলের ৮/৯ জনের একটি দল। তারা আব্দুল মুকিতকে না পেয়ে তার বসতঘরে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মুকিতের বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী-সস্তানকে মারধর করে হামলাকারীরা। এই হামলায় আব্দুল মুকিতের আপন দুই ছোটভাই স্থানীয় ছাত্রদল ক্যাডার লায়েক আহমদ ও সুহেদ আহমদ জড়িত ছিল। পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্ধের জেরে দীর্ঘদিন থেকে বড়ভাইয়ের সাথে তাদের বিরোধ ছিল। ১২ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে প্রতিবেশী লোকজন এসে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং ঘরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা যায়, স্থানীয় মাইজগ্রামের আব্দুস সালামের বড়পুত্র আব্দুল মুকিতের সাথে ছোট দুইপুত্র হেলাল আহমদ ও সুহেদ আহমদ দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বদলে যায় দেশের প্রেক্ষাপট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীহীন বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত লায়েক আহমদ ও সুহেদ আহমদ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এই সুযোগে ছাত্রদলের স্থানীয় সহযোগী ৮/৯জনের একটি দল নিয়ে ঘটনার দিন ১২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বড় ভাইয়ের বাড়িতে যায়। তারা আব্দুল মুকিতকে সন্ধান করে এবং জোরপূর্বক বসতঘরে ঢুকে তল্লাশী চালায়। আব্দুল মুকিতকে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগালি করে এবং ঘরের ভিতর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এসময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মুকিতের বৃদ্ধ মা-বাবা এবং স্ত্রী-সন্তানদেরকে মারধর করে হামলাকারীরা। একপর্যায় তারা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় প্রতিবেশী লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা হুমকী দিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং ঘরের আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের এই অস্থিতিশীল সময়ে স্থানীয় ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।