
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর, দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরী, আধ্যাত্মিক বিভাগ হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রহঃ) ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট। এই শহরে জন্ম নিয়েছেন কত ক্ষণজন্মা কৃর্তিমান ব্যক্তি। কবি-সাহিত্যিক, কলামিষ্ট সাংবাদিক, দার্শনিক-গবেষক, সমাজসেবক, উদ্যোক্তা, গল্পকার, উপন্যাসিক-প্রাবন্ধিক, গীতিকার, নাট্যকার, সংগীত শিল্পী, বুদ্ধিজীবি-আইনজীবী, বাউল-ফকির ও মরমীসহ অনেক জ্ঞানী গুণী সুফি সাধক কৃতকর্মের স্মৃতি রেখে অনেকই চলে গেছেন পরপারে। কিন্তু ইতিহাস তাদেরকে অমর করে রেখেছে। চিরদিন অমর থাকবেন এটাই চিরন্তন-চিরসত্য, মানুষ তার কর্মগুণে স্মৃতিময় উজ্জলতার স্বর্ণ শিখরে আরোহন করে। কর্মী মানুষ সবাই হয় না, কেবল তারাই হয় যারা সমাজ সচেতন। এ ধরনের লোকেরা সমাজের, দেশের, জাতির অমূল্য সম্পদ। সেই গুণে গুণান্বিত তারুণ্যের অহংকার, হযরত শাহজালালের পূণ্যভূমি সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকায় নুরানী ১৩০নং নিজ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৌরভ আহমদ সোহেল।
তিনি একজন লোকসংগীত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। তিনি মরহুম মোঃ মানিক মিয়া ও পরতিংগা বেগমের পরিবারে ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিবারের তৃতীয় সন্তান। সত্য, উদ্যমী লোকসংগীত শিল্পী সৌরভ আহমদ সোহেল বলেন, আমার শত ব্যস্ততার মাঝেও আরেকটি কাজ হচ্ছে নবীন-প্রবীন, জ্ঞানী গুণীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা। প্রবাদে আছে, যে গুণীজনকে সম্মান করেনা সে কখনও সম্মানীত হতে পারেনা। তিনি একজন স্বশিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হলেও তিনি দেশে, বিদেশ, সমাজে ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে সুপরিচিত। তিনি সিলেট অঞ্চলের যোগ্য এবং দক্ষ একজন লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সাস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে সরকারী ও বেসরকারী অনেক সংগঠন থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। দেশ ও বিদেশে তাহার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
তাঁহার মা, বাবা, দুই বোন ও স্ত্রী, সন্তান সহ অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। সৌরভ আহমদ সোহেল ১৯৮৯ সাল থেকে তার স্ব-উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করে আজ পর্যন্ত অদ্যবধি দেশের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী মিডিয়াটিভি চ্যানেলে সংগীত চর্চা প্রচার করে যাচ্ছেন। তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল শাহ আবদুল করিম ও শাস্ত্রীয় সংগীতের উস্তাদ পন্ডিত রামকানাই দাশ এর হাত ধরে সংগীত শিক্ষা লাভ করেন। এসব সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাহার জীবনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাহার সহধর্মীনি মাছুমা আক্তার শিউলী। সৌরভ আহমদ সোহেল তাহার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সুস্থ ধারার দেশীয় সাংস্কৃতিকে নিয়ে দেশ বিদেশে মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সর্বদা নিজেকে নিয়েজিত রাখতে চান।