• ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

দেশে থাকবো, দেশের মানুষের সেবা করবো: এম এ মালিক

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশে থাকবো, দেশের মানুষের সেবা করবো: এম এ মালিক

সিলেট-৩ আসনে (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বলেছেন—“আমি যতদিন বেঁচে থাকব, এই দেশেই থাকব; যদি মরেও যাই, এই দেশেই মরব। দেশের মানুষই আমাকে দাফন করবে—এই শপথ আমি নিয়েছি।”

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪০নং ওয়ার্ডের কুচাই বাজারে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বলেন, “আমি গত ১৫ বছর দেশে আসতে পারিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কারনে। আমি দেশে ফিরেছি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশে এসেছি। তিনি আমাকে বলেছেন—দেশে ফিরে দেশের মানুষের সেবা করো। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি এই দেশের মানুষের সেবা করব।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনীত করেছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।

“এই আসন থেকে জয়ী হয়ে আমি বিএনপিকে উপহার দিতে চাই, যাতে সংসদে গিয়ে আমাদের এই এলাকার কথা বলতে পারি,”।তিনি তার বক্তব্যে বিগত ১৬ বছরে এই অঞ্চলের অবহেলা ও উন্নয়নবঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে একটি রাস্তাও ঠিকমতো কার্পেটিং হয়নি। অসংখ্য স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বালাগঞ্জের এম ইলিয়াস আলী স্কুল, নবরুণ উচ্চ বিদ্যালয়, রেঙ্গা মাদ্রাসা, বালাগঞ্জ হাই স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমি গিয়েছি—সব জায়গায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কষ্টে আছেন। ”

তিনি আরও জানান, তাঁর অনুরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১১টি সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে এবং কিছু কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি জানান “নবারুণ উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার নতুন ভবন অনুমোদন হয়েছে, এম ইলিয়াস আলী উচ্চবিদ্যালয়, আহমদপুর হাই স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ শুরু করেছেন,

এছাড়া, দক্ষিণ সুরমায় একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিয়েছে বলে জানান এম এ মালিক।

তিনি বলেন, “বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। তাঁর সময়েই কৃষক, শ্রমিক, গার্মেন্টস, প্রবাসী প্রত্যেক খাতে উন্নয়ন হয়েছিল।”

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ধানের শীষ, তারেক রহমানের ধানের শীষ—এটাই বাংলাদেশের মানুষের প্রতীক। মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের দল কোনো বিভেদ চায় না। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই বাংলাদেশী। সবাই মিলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, “আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালান। মাকে বলবেন, বোনকে বলবেন, ছেলেকে বলবেন—ধানের শীষেই মুক্তি।”

বিএনপি নেতা দিলাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, দক্ষিন সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়েজ, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, সিলেট জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক লোকমান আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন দিনার, জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোঁখ হারানো ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম টিপু।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুমন শিকদার, আব্দুল হাসিব, হোসেন আহমদ তালুকদার প্রমুখ।

সভায় সিলেট – আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না। আমরা চাই শান্তি, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের রাজনীতি।

আমরা চাই— প্রত্যেকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আপনারা যদি ধানের শীষে ভোট দিয়ে মোহাম্মদ আব্দুল মালিক ভাইকে নির্বাচিত করেন, তাহলে এই অঞ্চলে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে— ইনশাআল্লাহ। মালিক ভাই শুধু একজন প্রার্থী নন, তিনি বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা, যাকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীর স্নেহ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহচর হিসেবে ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানবিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।