
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলায় দলবদলের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তবে তার এই উত্থানের পিছনে দুর্নীতি ও হত্যাসহ একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই লুৎফুর রহমান সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বানীগ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুৎফুর রহমান পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময়েও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন সময়ে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন ভারতের অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। প্রায় দুই মাস পর দেশে ফিরে এসে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাব বিস্তার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তাকে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় পদ লাভের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এবং সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষসহ ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। সেদিন একটি স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লুৎফুর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তাদের দাবি, আগে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লুৎফুর রহমানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ধারাবাহিক এসব অভিযোগ ও ঘটনার কারণে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।