• ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জকিগঞ্জে ‘আকমাম খাঁন শিক্ষা ও সেবা ট্রাস্টের’ ঈদ সামগ্রী বিতরণ

admin
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬
জকিগঞ্জে ‘আকমাম খাঁন শিক্ষা ও সেবা ট্রাস্টের’ ঈদ সামগ্রী বিতরণ

সিলেটের জকিগঞ্জ এর মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আকমাম খাঁন-এর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ‘আকমাম খাঁন শিক্ষা ও সেবা ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে (১৪ মার্চ) শনিবার জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলশার ইউনিয়নের দরগাবাহার পুর গ্রামে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আর্তমানবতার সেবায় ট্রাস্টের এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২৭ রমজান থেকে দারুল ক্বিরাতের সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

এই মানবিক কার্যক্রমের বিশেষ দিক হলো, প্রচারের আড়ালে থাকা সমাজের সেই অংশটির পাশে দাঁড়ানো। যারা অভাবের তাড়নায় দগ্ধ হলেও সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। ব্যারিস্টার আকমাম খাঁন তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল ও ট্রাস্টের মাধ্যমে নিরবে-নিভৃতে সেইসব পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আকমাম খাঁন সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে অনেকেই সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন, কিন্তু অধিকাংশের দৃষ্টি কেবল দরিদ্রদের প্রতি থাকায় তারা হয়তো সহায়তা পাচ্ছেন। তবে আমাদের চোখের আড়ালে রয়ে যাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা। দরিদ্র মানুষরা বিত্তবানদের কাছে হাত পাততে পারলেও লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে এই শ্রেণির মানুষরা কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। যে কোন দুর্যোগে ও কঠিন পরিস্থিতিতে তারা অসহায় হয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে গোপনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান আপনারা এই আত্মমর্যাদাশীল মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসুন।”

আর্দশিক সংগ্রাম ও অবিচল নেতৃত্বের দিক দিয়ে ছাত্রজীবন থেকেই ব্যারিস্টার আকমাম খাঁন একজন মেধাবী ও দূরদর্শী ছাত্রনেতা হিসেবে সুপরিচিত। হাইস্কুল থেকে শুরু করে ইউনিয়নের আহ্বায়ক থেকে, উপজেলা, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই একনিষ্ঠ সৈনিক দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে রাজপথের লড়াইয়ে ছিলেন আপসহীন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, দলের সুসময়ে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারী অনেক নেতা প্রতিকূল সময়ে যখন আত্মগোপনে থাকেন, ব্যারিস্টার আকমাম খাঁন তখন সুদূর প্রবাসে থেকেও আদর্শের প্রতি অবিচল। তিনি প্রতিনিয়ত নিজ এলাকার নেতা-কর্মীদের খোঁজ নিচ্ছেন এবং পরম মমতায় কর্মীদের পাশে থেকে ছায়ার মতো আগলে রাখছেন।

ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক উত্তরসূরি হিসেবে ব্যারিস্টার আকমাম খান জকিগঞ্জ উপজেলার ৯নং মানিকপুর ইউনিয়নের খলাদাপনিয়া (তোপখানা, শারেং বাড়ি) গ্রামের এক অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা হাজী মোঃ মুহিবুর রহমান খাঁন এলাকার একজন বরেণ্য শালিস ব্যক্তিত্ব এবং মাতা হাজী আনোয়ারা খানম একজন সফল জননী। পারিবারিক ঐতিহ্যে তাঁর দাদা মরহুম মোঃ রছমান আলী খাঁন শারেং তৎকালীন গ্রেট ব্রিটেনের ব্রিটিশ জাহাজের ‘চীফ শারেং’ হিসেবে কাজ করেছেন। পরিবারের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তাঁর চাচা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ আজিজুর রহমান খাঁন। তিনি কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন, যিনি ১৯৪৬-৪৭ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধকালীন সময়ে নিখোঁজ হন। উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত এই পরিবারের আট ভাই-বোনই লন্ডন ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং বংশপরম্পরায় সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত।

বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও প্রবাস জীবনে ব্যারিস্টার আকমাম খাঁন লন্ডনের বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন’ থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। সেখান থেকে লন্ডনে গিয়ে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী আইনজীবীদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক’-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আগামীর স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ব্যারিস্টার আকমাম খাঁনের মতো মেধাবী ও মানবিক নেতৃত্ব আগামীতে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। করোনাকালীন ও ভয়াবহ বন্যায় নিরবে নিভৃতে মানুষের পাশে থাকা এই ব্যক্তিত্ব জানিয়েছেন, এলাকার প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি সর্বদা প্রস্তুত।