
সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম জাহানের মায়ের মেজরটিলাস্থ বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহানের মা হাজেরা বেগম, ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও খোরশেদ আলম আহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাহবুবুল আলম জাহান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলার রায়ে আদালত থেকে তাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১০ মে জাহানের মা হাজেরা বেগম ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চান। পরিবারের দাবি, সেখানে তাদের জানানো হয়—জাহান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ায় তার বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।
তাদের আরও জানানো হয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে যে পলাতক বা বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি বা কর্মীর দায়ভার দল বহন করবে না। পরে জাহানের মা ও ভাই সেখান থেকে ফিরে আসেন।
এরপর জাহানের মা ছেলের পক্ষে একটি সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি জানতে পেরে ১৫ মে জাহানের মায়ের মেজরটিলার ৭৭/১, সি-ব্লকের ভাড়া বাসায় ছয়জনের একটি ছাত্রদলীয় বাহিনী যায়। তারা হাজেরা বেগমকে সাংবাদিক সম্মেলন না করার জন্য হুমকি দেয় এবং বলে, সাংবাদিক সম্মেলন করলে এর ফল ভালো হবে না, বরং এর ফল ভয়াবহ হবে।
এ ঘটনার পর নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে হাজেরা বেগম শাহপরান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
এর কয়েকদিন পর, ১৮ মে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ছাত্রদলীয় ক্যাডার বাহিনী মোটরসাইকেলে করে জাহানের বাসায় যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল এবং তারা বাসায় হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।
হামলায় হাজেরা বেগম, জাহাঙ্গীর আলম ও খোরশেদ আলম আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় বাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আহতদের মধ্যে খোরশেদ আলম জাহানের ভাই এবং তিনি একজন মানসিক অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
বর্তমানে আহত তিনজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Editor: Shahin Ahmed & Sadrul Islam Lukman
Office: Hoque Super Market, 3rd Floor, Zindabazar, sylhet.
Email: ekusheynet.syl@gmail.com
Contact: 01739447302