
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শেওলাবাজারে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় রক্তাক্ত আহত হয়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ ফয়জুল হক (৫৫), তিনি স্থানীয় দিগলবাক গ্রামের মতাছির আলীর পুত্র ও শেওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। গত ৫ মার্চ বুধবার বিকাল ৫টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বিএনপির একদল লোক প্রকাশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় আহত মোঃ ফয়জুল হক বাদী হয়ে বিয়ানাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, গত বছর ৫ আগষ্ট জুলাই গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সারাদেশের ন্যায় বিয়ানীবাজারেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াতের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। সেই ধারাবহিকতায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এবার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত হলেন আওয়ামী লীগ কর্মী ব্যবসায়ী মোঃ ফয়জুল হক। ঘটনার দিন বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা অলিউর রহমান, তাজুল ইসলাম ও মোঃ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির ১৫/১৬ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শেওলা বাজারে ফয়জুল ভেরাইট্রিজ ষ্টোরে যায়। এসময় মোঃ ফয়জুল হক নিজ দোকানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই বিএনপির লোকজন দোকানের ভিতর ঢুকে পড়ে। তারা আকস্মিক ভাবে মোঃ ফয়জুল হকের উপর হামলা চালায়, তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়। উচ্ছৃঙ্খল হামলাকারীরা দোকানের ভিতর এলোপাতাড়ি ভাংচুর করে সকল মালামাল নষ্ট করে ফেলে। এসময় আহত মোঃ ফয়জুল হকের চিৎকার ও হামলার ঘটনা দেখে প্রতিবেশী ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন। তারা হামলাকারীদের হাত থেকে মোঃ ফয়জুল হককে উদ্ধার করেন। পরে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়।
এই ঘটনায় ভিকটিম ফয়জুল হক বাদী হয়ে হামলাকারী বিএনপির ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ১০জনকে আসামী করে ঐদিন রাতে বিয়ানীবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৭, তারিখ- ০৫/০৩/২০২৫ইং। মামলার আসামীরা হলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার দিগলবাক গ্রামের রমিজ আলীর পুত্র অলিউর রহমান (৪১), কাকরদিয়া গ্রামের মোঃ কবির উদ্দিনের পুত্র তাজুল ইসলাম (৪৫), দিগলবাক গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের পুত্র মোঃ ফখরুল ইসলাম (৩৯), শালেশ্বর গ্রামের হাজী ছুয়াব আলীর পুত্র রুয়েল আহমদ (২৩), ঢেউনগর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের পুত্র ফয়েজ আহমদ (২৫), চারাবই গ্রামের মোঃ ইসলাম উদ্দিনের পুত্র নাজির হোসেন (২১) ও চারাবই গ্রামের এবাদ উদ্দিনের পুত্র আবু সাইদ রবিন (১৮), সহ অজ্ঞাত আরো ১০ জন।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উজ্জামান বলেন, হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।