• ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান বাবুলের বাসায় পুলিশের অভিযান

admin
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২৫
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান বাবুলের বাসায় পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক  : ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্থানীয় ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বাবুলের বাসায় শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শাহজাহান বাবুলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ৫নং আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ৮৫ জনকে নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালত থেকে বাবুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আসামি শাহজাহান বাবুলকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছি। পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তবে পরিবারের দাবি, তারা এ মামলার বিষয়ে পূর্বে কিছুই জানতেন না। শাহজাহান বাবুলের বড় বোন বলেন, “আমরা হঠাৎ শুনলাম বাবুলের নামে মামলা হয়েছে। তারপর পুলিশ এসে রাতে বাসায় অভিযান চালায়। আমরা কেউই বুঝে উঠতে পারিনি কেন এভাবে আমাদের বাড়িতে পুলিশ এল। এখন আমরা খুব ভয় আর উদ্বেগের মধ্যে আছি। পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান বাবুল ছাত্রজীবনে চরমহল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের হয়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও এলাকায় তার পরিচিতি এখনও রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গত জুলাই-জুলাই-আগস্ট ছাত্রআন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত।তবে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছি। যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

অভিযানের পর থেকে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। শাহজাহান বাবুলের অনুসারী ও আত্মীয়-স্বজনরা বলছেন, এ ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রভাবে বাবুলকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।