• ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৯ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গোলাপগঞ্জে পুকুর থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা

admin
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৫
গোলাপগঞ্জে পুকুর থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জে পিত্রালয় থেকে স্বামীর সাথে শশুর বাড়ি ফেরার পথে খুনের শিকার হয়েছেন সাবিনা আক্তার (২৭) নামক এক গৃহবধু। পরদিন ১৯ জুন সকালে গ্রামের এক পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে। নিহত সাবিনা আক্তার সুনামপুর গ্রামের আনুর মিয়ার স্ত্রী ও পাশবর্তী কাদিপুর গ্রামের মৃত আসমত আলীর কন্যা। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ সিলেটস্থ মর্গে প্রেরণ করেছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বোন জামাই আনুর মিয়াসহ ৩জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৫জন কে আসামী করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, স্থানীয় সুনামপুর গ্রামের মৃত মজির মিয়ার পুত্র আনুর মিয়ার সাথে প্রায় ৭বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় পাশ্ববর্তী কাদিপুর গ্রামের আসমত আলীর কন্যা সাবিনা আক্তারের। দাম্পত্য জীবনের ৭বছরেও তাদের কোন সন্তানাদি না হওয়া নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। ঘটনার ১সপ্তাহ পূর্বে সাবিনা আক্তার পিতার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৮ জুন বুধবার সকালে আনুর মিয়া শশুর বাড়ি যান এবং বিকাল বেলা স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু ঐদিন রাতে তারা আর বাড়ি ফিরেন নাই। পরদিন ১৯ জুন সকাল ৭টার দিকে ১০নং উত্তর ভাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা গ্রামের ইসতিয়ার রসুল সিরাজ নামক এক ব্যক্তির (রাস্তার ধারের) বাড়ির পুকুরের জলে এক মহিলার লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে থানায় খবর দিলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। এসময় সনাক্ত হয় লাশটি আনুর মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তারের। তখন জানাজানি হয় আগের দিন ১৮জুন আনুর মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে আর বাড়িতে আসেন নাই। তখন থেকেই আনুর মিয়া পলাতক রয়েছেন। এদিকে, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশের ধারণা তাকে শাশ্বরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আনুর মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তার বসতঘরে বাহির থেকে থালা ঝুলছে।

এই ঘটনায় নিহত সাবিনা আক্তারের ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঐদিন রাতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৩, তারিখ- ১৯/০৬/২০২৫ইং। মামলার আসামীরা হলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুনামপুর গ্রামের মৃত মজির মিয়ার পুত্র আনুর মিয়া (৪০), সুনামপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র আজমল হোসেন (৩৫), কাদিপুর গ্রামের মৃত মইজ উদ্দিনের পুত্র ইমরান হোসেন (৫১) সহ অজ্ঞাত আরো ৫জন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ধারণা করছি, তাকে শাশ্বরোধ করে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে। আইনের হাত থেকে কোন অপরাধী রেহাই পাবে না।