
স্টাফ রিপোর্টার : গত সোমবার (০৫ জানুয়ারী ২০২৬) রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ লাউতা পাড়িয়াবহর গ্রামস্থ ওয়াকিল আহমদের বাড়িতে পুলিশী তল্লাশী ও জামাত বিএনপি নেতাকর্মী কর্তৃক ভাংচুর চালানো হয়।
ওয়াকিল আহমদের পিতা খালেদ আহমদ জানান,আমার ছেলে দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী ছাত্রলীগের সাথে শান্তিপূর্ন ভাবে রাজনীতি করেছে। সন্ত্রাসী,রাহাজানী,সমাজ বিরোধী,ধর্ম বিরোধী কিংবা রাষ্ট্র বিরোধী কোন কর্মকান্ডের সহিত সে কখনো সম্পৃক্ত ছিলো না। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আমার ছেলে ওয়াকিল আহমদকে খুজিঁতে আমার বাড়ীতে পুলিশ প্রতিনিয়ত তল্লাশী চালায় এবং তাকে না পেয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবহিকতায় বিগত ০৫ই জানুয়ারী ২০২৬ইং রাত অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী রূপে ওয়াকিল আহমদের খুঁজে বাড়ীতে আসে। একপর্যায়ে পুলিশ ও জামাত বিএনপির নেতাকর্মীরা জোরে জোরে চিৎকার দিয়ে আমার ছেলে ওয়াকিল আহমদকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বলিতে থাকে। তাদের আক্রমনে পরিবারের সবাই ভয়ে কান্নাকাটি করিতে থাকে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে বলেন, ওয়াকিল তো দেশে নাই, সে প্রায় ১ বৎসর হতে লন্ডনে অবস্থান করিতেছে। এই কথা বলার সাথে সাথে তারা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠে। আমার স্ত্রীর কথা বিশ^াস না করে ওয়াকিল আহমদকে তল্লাশীর নামে আমার ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আমি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় ছিলাম। ওয়াকিল আহমদকে ঘরের ভিতর না পেয়ে তারা আমার স্ত্রীর সহিত খারাপ ব্যবহার করে। পুলিশ ও নেতাকর্মী বলে আজ তোর ছেলের ভাগ্য ভাল পাইলে তাহার হাত পা ভেঙ্গে প্রানে মেরে ফেলতাম। সবাই একসাথে বলে যায়, যেখানে আমার ছেলে ওয়াকিল আহমদকে তারা পাইবে হত্যা করিবে। তারা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমাদের কান্নাকাটিতে শেষ পর্যন্ত চলে যায়।
ওয়াকিল আহমদের মাতা শামীমারা বেগম জানান,আমার নিরপরাধ ছেলে বর্তমানে দেশের বাহিরে রয়েছে। আমার ছেলে ছাত্রলীগ করিলেও সে কখনো কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা বেআইনি কাজের সহিত জড়িত ছিলো না। আমার ছেলেকে প্রতিহিংসামূলক ভাবে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমায় মিথ্যা বক্তব্য দিয়া সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আমার ছেলে ওয়াকিল আহমদকে পুলিশ বারবার আসিয়া খোঁজার কারন জিঞ্জেস করিলে পুলিশ আমাকে ধমক দিয়া বলে তোর ছেলে ওয়াকিল আহমদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা চলমান আছে। আমার ছেলে ওয়াকিল আহমদকে পুলিশ পাইলে ক্রস ফায়ার করিয়া মারিবে বলিয়া চলিয়া যায়। আমরা পরিবারের সবাই চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করিতেছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় হাক চিৎকার ও কান্নাকাটির শোরগুল শুনে ওয়াকিলদের বাড়ীতে গিয়া পুলিশ ও জামাত বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখতে পাই। নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিলো। ওয়াকিল আহমদকে খুজঁতে তারা ঘরের ভিতর প্রবেশ করে ভাংচুর করে এবং চিৎকার দিয়ে ওয়াকিল আহমদকে পাইলে খুন করার হুমকি দিয়া চলে যায়। পুলিশ কে আসার কারন জিজ্ঞেস করিলে জানায়- ওয়াকিল আহমদের বিরুদ্ধে ২টি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে পাইলেই তাহাকে গ্রেফতার করিবে। ওয়াকিলের পিতা গুরুতর অসুস্থ পরিবারের সবাই চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে জীবন যাপন করিতেছেন।
ঘটনার বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়-ওয়াকিল আহমদের বিরুদ্ধে ১টি হত্যা মামলাসহ ২টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী আছে। ওয়াকিলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।