
শাবি প্রতিনিধি :: জুনিয়রকে মারধর করার ইস্যুকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গিয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান এবং ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ হোসেন রনি-সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনের গ্রুপের নেতাকর্মীরা। অস্ত্রের ঝণঝণানিতে এতে ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তবে এ মহড়া ঘন্টাব্যাপী স্থায়ি হলেও এতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। নেতৃবৃন্দের সাথে ফোনে কথা বলেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ছাত্রলীগের রনি-সাখাওয়াত গ্রুপের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারের এক জুনিয়র কর্মীকে সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের অনুসারি লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের হৃদয় নামের এক শিক্ষার্থী পরিচিত হওয়ার নামে চড়-থাপ্পড় দেয়। পরে বিষয়টি নিজগ্রুপের বন্ধুদের জানালে রনি-সাখাওয়াত গ্রুপের ১/১ এর শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু হলে হৃদয়ের কক্ষে গিয়ে হৃদয়কে লাঞ্ছিত করে। পরে সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়।
তবে জুনিয়র কর্তৃক লাঞ্ছিতের বিষয়টি ইমরান খানের অনুসারিরা জানার পর তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে একই হলের ৫০১৬ নাম্বার কক্ষে রনি-সাখাওয়াত গ্রুপের জুনিয়রদের মারধর করতে যায়। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় ঐ কক্ষের জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে রনি-সাখাওয়াত গ্রুপের অনুসারিরাও অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইমরান খানের অনুসারিদের মারধর করতে যায়। এসময় একটি ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। তবে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে একে অন্যকে দোষারোপ করছে উভয় গ্রুপই।
রাত দেড়টার দিকে দুই গ্রুপের এরকম অস্ত্রের মহড়া ও ককটেল বিস্ফোরণে ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগই ঘুমে থাকার কারণে বুঝে উঠতে পারেনি আসলে ঠিক কি সমস্যা হয়েছে। অন্যদিকে হলে বেশিরভাগ কক্ষে নবীন শিক্ষার্থী অবস্থান করায় বিষয়টিতে তারাও অনেকটা ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েন।
এ ব্যাপারে শাবি ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, জুনিয়রদের মারধর করায় এ ঘটনা ঘটেছে। ইমরান খানের অনুসারিরা ককটেল ফাটিয়েছে ও একটা সমাধান হওয়ার পরও রুমের জানালা ভাংচুর করেছে।
সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা রাতেই বসেছি। বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
তবে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যঘাত ঘটিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এসএম হাসান জাকিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু বিষয়টির সূত্রপাত ক্যাম্পাসে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।