• ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রূপগঞ্জে সমকামী মহিলাকে নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা: ইসলামী মৌলবাদীদের হুমকী

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২০

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার আতলাপুরবাজার এলাকার দেবই উত্তরপাড়া গ্রামে দুই সন্তানের জননী সমকামী এক মহিলাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সমকামীতায় আসক্ত থাকার অভিযোগে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত মহিলাটি এখন পিতার বাড়িতেও নিরাপত্তাহীনতায় চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় ইসলামী মৌলবাদীরা মেয়েটিকে ইসলাম ধর্মচ্যূত কাফির মুরতাদ হয়ে গেছে বলে ফতোয়া দিয়ে তাকে হত্যার হুমকী দিচ্ছে। এতে করে ভিকটিম মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতংকে অমানবিক ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী মহিলা ফারজানা (২৮) স্থানীয় দেবই উত্তরপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের কন্যা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভাধীন রূপসী বকুল নগর এলাকার মোঃ মিয়াজ উদ্দিন মিজির পুত্র মোঃ আমান উল্লাহ মিজির সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় ফারজানার। বিয়ের পর প্রথম ক’বছর পড়াশুনার সুবাদে ফারজানা পিতার বাড়িতেই থাকতো। এই অবস্থায় বিয়ের প্রায় দুই বছর তাদের এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। সন্তান জন্মের পর ফারজানা স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদের আরো এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়। তৎসময় পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল ফারজানা ও তার পরিবারের। এই অবস্থায় ফারজানা তারাব পৌরশহরে একটি বিউটি পার্লারের দোকান খুলে স্বামীর মাধ্যমে। এই পার্লারে মিতু নামের এক মেয়েকে চাকুরী দেয় ফারজানা। পরবর্তীতে জানা যায় ঐ মিতু মেয়েটিও সমকামী ছিল। তাই ফারজানা মিতুকে তার স্বামীর বাড়িতে বসবাসের ব্যবস্থা করে। এই অবস্থায় স্বামীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফারজানা ও মিতুর সমকামীতা চলছিল। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর ২০২০ তারিখে স্বামীর কাছে ধরা পড়ে যায় ফারজানা। ঐদিন রাতে স্বামীকে বিছানায় ঘুমে রেখে মিতুর ঘরে গিয়ে ফারজানা ও মিতু সমকামীতায় লিপ্ত হয়। কিন্তু পরক্ষনে ঘুম থেকে জেগে উঠে বিষয়টি দেখে ফেলেন মোঃ আমান উল্লাহ মিজি। এই ঘটনায় ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ফারজানা ও মিতুকে বেদম মারধর করেন ফারজানার স্বামী। তিনি পরদিন মিতুকে বাড়িতে বের করে দেন, একই সাথে সন্তানদের সাথে দিয়ে স্ত্রী ফারজানাকেও পাঠিয়ে দেন তার পিতার বাড়িতে। ভেঙ্গে যায় তাদের দাম্পত্য সংসার। সেই থেকে ফারজানা দুই সন্তান নিয়ে পিতার বাড়ি দেবই উত্তরপাড়া গ্রামে বসবাস করছে। এই ঘটনাটির খবর ফারজানার স্বামীর গ্রাম ও তার পিতার গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। এতেকরে পিতার বাড়ি দেবই উত্তরপাড়া গ্রামে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের কট্টরপন্থী ইসলামী মৌলবাদী একদল লোক ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। তারা গত ২২ অক্টোবর রাতে গ্রামে সভা ডেকে ফতোয়া দেয় ফারজানা ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যূত হয়ে কাফির হয়ে গেছে। কারণ ইসলাম ধর্মে সমকামীতাকে কঠিন পাপ হিসাবে দেখা হয়। তাই এখন তাকে হত্যা করা ইসলামী দায়িত্ব বলে ফতোয়া দেয়া হয়। গ্রামের আরেক পক্ষ তাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বলে। এইসব নিয়ে ফারজানাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামের লোকজন ফারজানা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং নানাভাবে বিদ্রপ করছেন। আর ইসলামী মৌলবাদী লোক গুলো তাকে হত্যার হুমকী দিচ্ছে। এই অবস্থায় ফারজানা ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ফারজানাকে গৃহবন্ধি করে রেখেছে তার পরিবার। তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এতে চরম আতংক ও অমানবিক ভাবে দিন কাটছে সমকামী ফারজানার। ধর্মীয় রক্ষনশীল এই অঞ্চলে ফারজানার সমকামীতাকে ভয়ংকর ধর্ম অবমাননার অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।