
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ (৪২) কে বাড়িতে না পেয়ে তার আপন বড় ভাই সমাজসেবক সেলিম আহমদকে ধরে নিয়ে গেছে থানা পুলিশ। সোমবার (৪ মে) রাত ১১টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, সেলিম আহমদকে গ্রেপ্তার পর স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে ওই ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরসহ লুটপাটের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিবপুর গ্রামের মৃত আপ্তাব আলীর ছেলে রুহেল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জগন্নাথপুর পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থাকায় এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা ছিল তাঁর। যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে ক্ষোভত্ব জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদকে হত্যা উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে একাধিকবার হামলা চালায়। কিন্তু ওই ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ দেশের বাহিরে থাকায় বেঁচে থাকলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাঁর পরিবার। গতকাল সোমবার রাতে জগন্নাথপুর থানার একদল পু্লিশ ওই ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয় তাঁকে না পেয়ে তাঁর বড় ভাই সেলিম আহমদ (৫৪) কে ধরে নিয়ে যায়। এসময় তাঁদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় স্থানীয় জামায়াত বিএনপির লোকজন।

এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, মূলত রুহেল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বার বার তাদের বাড়িতে অভিযান করছে । পুলিশ রুহেলকে না পেয়ে সেলিমকে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনাটি অমানবিক। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই; সেই সাথে সমাজসেবক সেলিমের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সেলিমের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে৷ তাই তাকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে; তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নেন জবাবে ওসি বলেন, সেলিম যদি নির্দোষ হয়ে থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।