
একুশে নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এক তরুণ শিক্ষার্থী প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তির অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই তরুণের নাম আবদুল্লাহ আল রোমান (২৫)। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রোমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে একটি পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ওই ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন চান, যিনি স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, রোমানের সঙ্গে এক তরুণী রিয়া রহমানের (২২) সাথে সম্পর্ক ও পরবর্তীতে তাদের গোপন বিয়ে নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আলমগীর হোসেন চান তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর ওই তরুণী ছুটিতে টাঙ্গাইলে তার বাড়িতে গেলে আলমগীর হোসেন চান তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ১২ নভেম্বর চান কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাধা দিলে ওই তরুণীকে মারধর করা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, ১০ ডিসেম্বর ২০২২ রাতে ওই তরুণীর বাড়িতে একা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত চান জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তাকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক লজ্জা ও নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তখন এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়নি বলে জানা যায়।
এদিকে গত ৮ জুন ২০২৩ তারিখে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় আবদুল্লাহ আল রোমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রোমানের দাবি, সেদিন সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে আলমগীর হোসেন চান ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করে ওই তরুণীর অবস্থান জানতে চান। তিনি জানান যে ওই তরুণী বিদেশে অবস্থান করছেন। এ কথা শুনে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে রোমানের কাঁধে গুরুতর জখম হয়। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় পথচারীরা আহত রোমানকে উদ্ধার করে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার কাঁধে গভীর আঘাত লেগেছে এবং সেখানে সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলার পর ১১ জুন ২০২৩ তারিখে রোমান তেজগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।