
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজারে প্রকাশ্যে থানায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের এক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি প্রবাসী যুবলীগ নেতা তৌফিক আহমদের সরাসরি পরিকল্পনা ও হুকুমে এ বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সচেতন মহল ও সর্বস্তরের জনগণ সন্ত্রাসী তৌফিক আহমদকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত তৌফিক আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের একটি পরিচিত মুখ এবং উপজেলার ১০নং মুড়িয়া ইউনিয়নের (২০২০—২০২৩) কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত ৫ই আগস্ট ২০২৪ইং তারিখে ছাত্র—জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিয়ানীবাজারে গত ২৬শে আগস্ট ২০২৪ইং তারিখে রায়হান হত্যা মামলা (মামলা নং—০৮) দায়ের হয়। উক্ত হত্যা মামলায় তৌফিক আহমদ ১৩ নম্বর আসামি এবং তার পিতা স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা শামীম আহমদ ২৯ নম্বর আসামি। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং তারিখে সিলেট থেকে পুলিশ শামীম আহমদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেও তৌফিক আহমদ গ্রেফতার এড়াতে বিদেশে পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিগত ১৬ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখ সন্ধ্যার পর বিয়ানীবাজার পৌরসভাস্থ দক্ষিণ বাজার এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান খাঁনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়ে প্রবাসে আত্মগোপনে থাকা তৌফিক আহমদ মোবাইল ফোনে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করে। সে নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয়ে গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজ আতাউরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় অফিসার ইনচার্জ তাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি নির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাকে ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রবাসে থাকা তৌফিক আহমদ ওসিকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
এর কিছুক্ষণ পরই রাত আনুমানিক ৮:১৫ মিনিটের দিকে তৌফিক আহমদের হুকুমে ও পূর্ব—পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০/৩৫ জনের একদল অস্ত্রধারী যুবলীগ সন্ত্রাসী বেআইনিভাবে বিয়ানীবাজার থানায় অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামি আতাউর রহমানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের থানা এলাকা থেকে বের করে দিতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে সন্ত্রাসীরা আরও উত্তেজিত হয়ে থানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ও ঢিল ছুড়তে থাকে। সন্ত্রাসীদের হামলায় থানার একজন উপ—পরিদর্শক (এসআই) ও একজন কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছুড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় তৌফিক আহমদকে ২ নম্বর আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা (মামলা নং—১৪, তারিখ: ১৭/০৩/২০২৬ইং) দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের এস.আই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েও দূর প্রবাসে বসে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের দুঃসাহস দেখানোয় বিয়ানীবাজারের সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত ও বিস্মিত। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক—রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত সকল সন্ত্রাসী এবং বিদেশে পলাতক তৌফিক আহমদকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।