
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে ২০২২ সালের একটি মামলার আসামি সায়েম আহমদকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সায়েম বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা নাঈম হাসানের ছোট ভাই।
পরিবারের দাবি, গত ২১ আগস্ট রাত ১২টার পর দক্ষিণ বাঘা এলাকায় তাদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় সায়েমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং ০৬/২০২২ দায়ের করা হয়। জি আর নং ২৮/২০২২-এর ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৩৩, ৩৫৩, ৪৪১, ৪৪২, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় নাঈম হাসান, তার বাবা আরজদ আলী, ছোট ভাই সায়েম আহমদসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত শেষে মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তথ্যও সংশ্লিষ্ট নথিতে রয়েছে। ২০ আগস্টের আদালতের আদেশের পরদিন ২১ আগস্ট রাত ১২টার পর সায়েমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, আদালতের আদেশের পরই পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
নাঈম হাসানের মা জানান, ছেলেকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সায়েমের বর্তমান অবস্থান ও তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের দাবি, পুলিশের অভিযানের সময় বাড়িতে প্রবেশ ও সায়েমকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে এবং সেই ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে। মামলার সঙ্গে নাঈমের বাবা আরজদ আলীর নামও রয়েছে। নথিতে তার আত্মগোপনে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলায় একাধিক সদস্য আসামি থাকার কারণে সায়েমের গ্রেফতারের ঘটনায় পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সায়েমকে কোথায় রাখা হয়েছে, তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।