
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমার একটি ভোটকেন্দ্রে হামলা ও জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ওই কেন্দ্রের পিসাইডিং অফিসারকে মারধরও করা হয়। হামলা ও জাল ভোটের জন্য অভিযোগে উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার বিকেলে ভোটগ্রহনের শেষ সময়ে সিলাম পিএল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রে ভোটগ্রহনের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল করিমের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ মিছিল নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যায়। তারা ওই সময় বিসৃঙ্খলা সৃষ্টি ও হামলা করে। প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করে পিস্তল দেখিয়ে ব্যালটে জোরপূর্বক সীল মারার পর বাক্সে ঢুকায়। প্রিজাইডিং অফিসার কুতুব উদ্দিনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বাধা দিয়েও তাদের আটকাতে পারেন নি। এক পর্যায়ে কয়েকটি বাক্সে আড়াই থেকে তিন হাজার জাল ব্যালট প্রবেশ করায়। অভিযোগ উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেনি পুলিশ।
এদিকে ভোরে ওই কেন্দ্রের জাল ভোট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শেখ রাশেল হাসান। তিনি জানান দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে একজন ম্যাজিস্টেট ঘটনাস্থলে যান বলে জানান ডিসি।
এ বিষয়ে ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কুতুব উদ্দিন বলেন, একদল লোক হামলা করে জাল ভোট দিয়ে চলে যায়। তারা হাবিবুর রহমানের সমর্থক বলে জেনেছেন। গত ১ জানুয়ারি ফজলুর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক আমার কাছে এসে বেআইনিভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রস্তাব করে। রাজি না হওয়ায় তারা পরে রাস্তায় আমার উপর হামলা করে। আমি স্কুল থেকে ওই দিন বাড়ি ফিরছিলাম।
আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাবিবের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়েছে। সিলাম স্কুল কেন্দ্রে হামলা করে জাল ভোট দেয়। এ থেকে প্রমাণ হয় নির্বাচন সুষ্টু হয়নি।
জাতীয় পাটির প্রার্থী আতিকুর রহমান জানান বিভিন্ন স্থানে মোটামুটি শন্তিপূর্ণ ভোট হলেও সিলেট-৩ আসনে জাল ভোট ও হামলা হয়েছে। এটা খুবই দু:খজক।