• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিয়ানীবাজারে এক যুবক অপহৃত, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবী

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৪
বিয়ানীবাজারে এক যুবক অপহৃত, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবী

অপহৃত মোঃ মাইদুল ইসলাম (ফাইল ছবি)

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়দেশ গ্রামের মোঃ মাইদুল ইসলাম নামের এক যুবক অপহরণের শিকার হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টার পর বিয়ানীবাজার পৌরশহর থেকে বাড়ি ফিরার পথে সে অপহৃত হয়। পরদিন দুপুরে অজ্ঞাত অপহরণকারীরা অপহৃতের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার মায়ের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছে। অপহৃত মোঃ মাইদুল ইসলাম স্থানীয় বড়দেশ গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিনের পুত্র।

জানা যায়, অপহৃত মোঃ মাইদুল ইসলাম বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই। মোঃ মাইদুল ইসলাম সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য। তার বাবাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মোঃ মাইদুর ইসলামের বাবা ও ভাই বাড়ি ছেড়ে পলাতক হন। মোঃ সাইদুল ইসলাম ৮ আগস্ট সুতারকান্দি বর্ডার দিয়ে ভারতে পালানোর সময় বিজিবি তাকে গ্রেফতার করে। এই অবস্থায় গত ১৩ আগস্ট বিয়ানীবার পৌরশহর থেকে বাড়ি ফিরার পথে মোঃ মাইদুল ইসলাম অপহৃত হয়। ভিকটিমের মা এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে আমার ছেলে মোঃ মাইদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানায়, বাজারের সদাইপাতি ক্রয় করা শেষে হয়েছে, সে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে। এরপর আমার ছেলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পরদিন ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আমার ছেলের মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসে। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কথা বলে জানায়, মোঃ মাইদুল ইসলামকে তারা অপহরণ করেছে। সে এখন তাদের কাছে বন্ধি আছে। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তারা তাকে ছেড়ে দিবে, অন্যথায় তাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। তারা আরো হুমকী দেয়, এই বিষয়ে পুলিশ বা আইনের কাছে গিয়ে কোন লাভ হবে না। বরং পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তারা মোঃ ম্ইাদুল ইসলামকে মেরে ফেলবে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি এখন এতো টাকা কোথায় পাবো? আর আমার কলিজা টুকরো ছেলেকে কিভাবে ফিরে পাবো? আমার বড় ছেলে বিনাদোষে জেলে বন্ধি, স্বামী পলাতক। এই অবস্থায় এখন আমি মহিলা মানুষ কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানায় যোগাযোগ করলে, দায়িত্বরত অফিসার জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। তাছাড়া দেশের পরিবর্তিত অস্থিতিশীল এই সময়ে থানা পুলিশ এখনো কাজ করার মতো মানসিক অবস্থায় ফিরেনি।