
স্টাফ রিপোর্টার: স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনার দাবি ও পলাতক আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও মেয়রদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির দাবীতে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছাত্র জনতা, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা, সংঘর্ষ ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্র জনতা, বিএনপি ও জামায়াতের অনেকেই আহত হয়েছে। গত ০৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটস্থ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় ৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সিলেট নগরীর লামাবাজার এলাকার মৃত মোঃ মাহমদ মিয়া ছেলে মোঃ আব্দুস ছালাম টিপু বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের ৩৬ জনের নামাল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন-১. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (৫০), সাবেক মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-সিলেট, ২. হাবিবুর রহমান হাবিব (৪৫), (সাবেক এমপি) সিলেট-০৩, ৩. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (৪০), সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের এপিএস, পিতা-নুরুন্নবী চৌধুরী, গ্রাম-লামাপাড়া, থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ৪. নাজমুল ইসলাম (৩৫), সভাপতি, ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখা, পিতা-তোফাজ্জল আলী মাষ্টার, গ্রাম-তাহিরপুর, থানা-ওসমানীনগর, জেলা-সিলেট,বর্তমান গ্রাম-মেজরটিলা,থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ৫. রাহেল সিরাজ (৩০), জেলা ছাত্রলীগ, পিতা-বখতিয়ার সিরাজ উজ্জ্বল, গ্রাম-মাইজভাগ, ভাদেশ্বর, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৬. দেবাংশু দাস মিঠু (৪০),সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ, পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম-মেজরটিলা,থানা-শাহপরান (রঃ),জেলা সিলেট, ৭. দেলোয়ার হোসেন রাহি (৩০), সভাপতি, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ,পিতা-অজ্ঞাত, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-সিলেট, ৮. হাবিবুর রহমান হাবিব (২৬), সাধারণ সম্পাদক, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ, পিতা-অজ্ঞাত,থানা-অজ্ঞাত, জেলা-সিলেট, ৯. মোঃ ইমরান আহমদ মিছবাহ (২৫), পিতা-মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাং-সুহিতপুর, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ, ১০. রোহেল আহমদ (৩২), কাউন্সিলর, ৩২নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সভাপতি, ছাত্রলীগ সিলেট সরকারী কলেজ, পিতা-মৃত ফিরোজ মেম্বার, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-সিলেট, ১১. তুহিন (৪৫), পিতা-মৃত আব্দুল ওয়াব, গ্রাম-শিবগঞ্জ, থানা-শাহপরান (রঃ),জেলা-সিলেট, ১২. ইসলাম উদ্দিন (৪৭), পিতা-মকবুল আলী, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ১৩. শরীফ আহমেদ মাহবুব (২১), সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা, পিতা-নুরুল ইসলাম মাসুক, সাং-চানপুর, থানা-জালালাবাদ, জেলা-সিলেট, ১৪. মোঃ আজব আলী (৪৫), পিতা-কাসিন আলী, গ্রাম-জাহিদপুর, থানা-ছাতক, জেলা সুনামগঞ্জ, ১৫. মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৫১), পিতা-মৃত মমশ্বর আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগ, গ্রাম-উপশহর, থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ১৬. রেজাউল ইসলাম রেজা (৪৫), সিলেট মহানগর যুবলীগ নেতা, পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম-ডালতলা, থানা-সিলেট সদর জেলা-সিলেট, ১৭. আব্দুল আজিজ (৪৭), সাধারণ সম্পাদক, ৫নং লিঙ্গেরকাছ ইউ/পি, পিতা-মঞ্জুর কারী, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ১৮. রহমান আলী (৪৪), সহ-সভাপতি, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, সিঙ্গেরকাছ ইউ/পি,পিতা-ইসকন আলী, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ১৯. মন্টু মিয়া (৫০), থানা অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ২০. ভিডি জাহাঙ্গীর আলম (৩২), সাবেক মহানগর ছাত্রলীগ নেতা, পিতা-জাহির আলী, গ্রাম-মাঝগাঁও কাজীটুলা ১৭-২০নং, থানা-বিশ্বনাথ, জেলা-সিলেট, ২১. আনোয়ার হোসেন (৪৬), সদস্য, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগ, পিতা-আবরু মিয়া, গ্রাম-শেখেরগাঁও, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ২২.শফিকুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মমশির আলী, গ্রাম-সিংরাওলী, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ২৩. জামাল আহমদ (৪২), পিতা-আব্দুললাহ, গ্রাম-সিংরাউলী, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ২৪. শাকিল আহমদ (৩৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, গ্রাম-বালুচর, জোনাকী, থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ২৫. জাহাঙ্গীর আলম (৫০), যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবলীগ, ২৬. মনর মিয়া (৩৮), পিতা-সোহাগ মিয়া,সাং-ইসলাদমনগর,থানা-কুলাউড়া, জেলা-মৌলভীবাজার, ২৭. আব্দুর রহিম (৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম-লামাপাড়া, থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ২৮. কাজল আহমদ (৩২), ওসমানীনগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা, পিতা-ইছকন উললাহ, গ্রাম-বারঠাকুরী, থানা-জকিগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ২৯. জগলুল আহমদ (৪৮), ওসমানীনগর আওয়ামীলীগ নেতা, পিতা-সমসু মিয়া, গ্রাম-বারঠাকুরী, থানা-জকিগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৩০. ফয়ছল আহমদ (৩৫), জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা, পিতা-বাবুল আহমদ, গ্রাম-বারঠাকুরী, থানা-জকিগঞ্জ, জেলা সিলেট, ৩১. বাবলু আহমদ (৪০), উপজেলা যুবলীগ নেতা, পিতা-মৃত আব্দুশ শুকুর, গ্রাম-বারঠাকুরী, থানা-জকিগঞ্জ,জেলা-সিলেট, ৩২. জুবের আহমদ (৪৫), মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের এপিএস, পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম-গলমুকাপন, থানা-ওসমানীনগর, জেলা-সিলেট, ৩৩. আক্তার হোসেন (৪০), পিতা-মৌলভী আব্দুল লতিফ, গ্রাম-চৌঘরী, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৩৪. ইফতেখার শামীম (৩২), পিতা-হীরা মিয়া, গ্রাম-শিবগঞ্জ, সোনারপাড়া, থানা-শাহপরান (রঃ), জেলা-সিলেট, ৩৫. আবু বকর হিরণ (৪০), পিতা-আবু তাহের, গ্রাম-হাওয়াপাড়া, থানা-অজ্ঞাত, জেলা-অজ্ঞাত, ৩৬. সুমন (৩০), পিতা-মোবারক মিয়া, গ্রাম-হাওয়াপাড়া, থানা-সিলেট সদর, সিলেট সহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জন।
মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে সারা দেশব্যাপী কর্মসূচী পালনের অংশ হিসেবে স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনার দাবি ও পলাতক আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও মেয়রদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি ও জামায়াতের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার মিছিল সহকারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটস্থ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক হইতে সিলেট কোর্ট পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে মদিনা মার্কেটে পৌঁছামাত্র পূর্বথেকে অবস্থান করা উপরোক্ত আসামীরা সহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জন আসামী সাথে নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা হত্যা, সংঘর্ষ করার উদ্দেশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, কাটা রাইফেল, পাইপগান, রামদা, ককটেল সহ মারাত্বক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্রদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে মারপিট, ককটেল বিস্ফোরণ করে তাদেরকে আতংকিত করে মিছিলটি ছঙ্গভঙ্গ করার জন্য ১-১০নং আসামীগণের হুকুমে সিলেটের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ, ১৩নং আসামী মিছিলে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। তার ছোড়া গুলি বাদীর ডান কাধে পড়ে মাংস ছুড়ে কাধ হইতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ১২-২২নং আসামীগণ ককটেল বিস্ফোরন ব্যবহার করে ঘটনাস্থল সহ আশপাশের এলাকা আতংকিত করে। ২৩-৩৫ নং আসামীগণের ছোড়া গুলি বাদীরর পিঠে পড়ে মারাত্বক রক্তাক্ত জখম হয়। সাথে সাথে বাদীসহহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলের মাটিতে লুঠিয়া পড়ে, একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আসামীগণ তাদের হাতে থাকা অবৈধ অগ্নেয়াস্ত্র, কাটা রাইফেল পাইপগান, রামদা ককটেল, লোহার পাইপ, লাঠিসোটা সহকারে ককটেল বিস্ফোরন ঘটাইয়া জনেমনে আতংক ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম পূর্বক ছাত্র জনতা, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর আক্রমন করে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। আসামীগণ ঘটনাস্থলে বাদীকে মাটিতে পড়ন্ত অবস্থায় দেখিয়া মৃত ভেবে হামলাকারী দৌড়াইয়া মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উপরোক্ত আসামীগনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ করেন অভিযোগকারী।