• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে সহকারী প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়

admin
প্রকাশিত April 16, 2026
৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে সহকারী প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়

মৌলভীবার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কদমহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবসরজনিত বিদায়ে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়ছোঁয়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক রানু গোপাল রায়কে। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত এই আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।

বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রানু গোপাল রায়কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, ভেসে ওঠে অসংখ্য স্মৃতির পাতা।

২০২২ সালের এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান।

বিদায়ি সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তার কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগে স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে একজন শিক্ষকের পাশাপাশি একজন অভিভাবকের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান শেষে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন নজর কাড়ে সবার। ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হয় এই শিক্ষককে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তাকে মৌলভীবাজার পৌরশহরের গীর্জাপাড়া এলাকায় তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, রানু গোপাল রায় একই বিদ্যালয়ে টানা ৩১ বছর শিক্ষকতা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় নয় বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার শাসন-স্নেহ আর নিষ্ঠা শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে আছে গভীরভাবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি শুধুমাত্র একজন শিক্ষক নন, বরং একজন অভিভাবকের মতো ছিলেন। যে-কোনো সমস্যায় তার কাছে গেলে কখনো খালি হাতে ফিরতে হয়নি। তার বিদায়ে তারা গভীর শূন্যতা অনুভব করছেন।

সহকর্মী শিক্ষকরা বলেন, নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং মানবিকতায় অনন্য এই মানুষটির বিদায়ে স্কুল পরিবার এক আদর্শ ব্যক্তিত্বকে হারাল। দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিক গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে ছিলেন অনুকরণীয়।

বিদায় বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক রানু গোপাল রায় বলেন, এই স্কুল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি সবসময় ন্যায়ের পথে থাকার চেষ্টা করেছি। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।