• ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী কন্যার ওপর পারিবারিক নির্যাতন ও প্রতারণার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পিতার আবেদন

admin
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক তরুণীর বৈবাহিক জীবনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত করা এবং বাধ্য হয়ে যুক্তরাজ্য ত্যাগের শিকার হওয়ার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তার পিতা। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়ে তিনি এই লিখিত বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতির মূল অংশ:

“আমি একজন দায়িত্বশীল পিতা হিসেবে আজ প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি আমার মেয়ে তার বিবাহিত জীবনে চরম অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমি চাই তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সত্যতা উদঘাটিত হোক এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

আমার মেয়ের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মো. আরমান হোসেন সৈকত (Md Arman Hossain Shaikat)-এর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তিনি আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। শুরুতে এই সম্পর্ক নিয়ে আমার কিছু পারিবারিক আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া এবং উচ্চশিক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমার মেয়ে তার স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায়।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরপরই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। আমার মেয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি এবং একজন স্বামীর কাছ থেকে যে ন্যূনতম সাপোর্ট ও যত্ন পাওয়ার কথা ছিল, সে তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে প্রতিনিয়ত কলহ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ওপর একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া তার স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে কখনো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। এসব ঘটনা আমার মেয়ের ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং তার জীবনের লক্ষ্য পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে এবং যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার যে স্বপ্ন আমার মেয়ে দেখেছিল, তা অধরা রেখেই তাকে যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। একজন বাবার জন্য সন্তানের এই স্বপ্নভঙ্গ ও করুণ পরিণতি দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আমি কাউকে বিনাপ্রমাণে সরাসরি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চাই না। তবে আমার আকুল আবেদন—আমার মেয়ের উত্থাপিত শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগগুলো যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে। যদি তদন্তে জবরদস্তিমূলক আচরণ, সহিংসতা বা কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আমার মেয়ের অধিকার রয়েছে তার নিজের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করার এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার। আমি মানবাধিকার সংস্থা, নারী অধিকার সংগঠন, আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগকে যেন কোনোভাবে অবহেলা না করা হয়।

আমি কোনো প্রতিশোধ বা বিদ্বেষ থেকে এই বক্তব্য দিচ্ছি না। একজন পিতা হিসেবে আমার একমাত্র চাওয়া—আমার মেয়ে যেন তার হারানো আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচার ফিরে পায়।”