
বড়লেখা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলাধীন বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে ইউকে প্রবাসী মায়ারুন নেছা হত্যা মামলার ৩নং আসামী ফাহাদ আহমদকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পাশবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রাম বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী ফাহাদ আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রামের ফারুক উদ্দিনের পুত্র।
জানা যায়, পুত্রবধুর পরকিয়া প্রেমের জেরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে স্থানীয় চান্দগ্রামে নিজ বাড়িতে নির্মম ভাবে খুন হন ইউকে প্রবাসী মায়ারুন নেছা। তিনি চান্দগ্রামের ইউকে প্রবাসী ফাতির আলীর স্ত্রী। নিহতের ইউকে প্রবাসী পুত্র মকসুদুল আলম স্বপনের দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা বেগম স্বামীর বাড়িতে থাকাবস্থায় অবৈধ পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। হত্যা ঘটনার কয়েকদিন আগে মায়ারুন নেছা দেশে আসেন। গত ঈদুল আযহার দিবাগত গভীর রাতে ঘটনার সময় নিজ ঘরে পরকিয়া প্রেমিক আলী হোসেন ও সঙ্গী ফাহাদ আহমদকে নিয়ে আসেন ফাহিমা বেগম। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠে মায়ারুন নেছা এই দৃশ্য দেখে নেওয়ায় তাকে খুন করা হয়। পুত্রবধু ফাহিমা বেগম, পরকিয়া প্রেমিক আলী হোসেন ও তার সঙ্গী ফাহাদ আহমদ মিলে শ্বাশরোধ করে নির্মম ভাবে মায়ারুন নেছাকে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ঘাতক ফাহিমা বেগমকে গ্রেফতার করেছিল। এই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। এই ঘটনায় বড়লেখা থানায় ৩জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১০, তারিখ- ১৫/০৯/২০১৬ইং। মামলার প্রধান আসামী ফাহিমা বেগম জেল হাজতে রয়েছে। ২য় আসামী আলী হোসেন ও ৩য় আসামী ফাহাদ আহমদ পলাতক ছিল। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এই অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পাশবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রাম বাজারে অভিযান চালিয়ে আসামী ফাহাদ আহমদকে গ্রেফতার করে বড়লেখা থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, আলোচিত মায়ারুন নেছা হত্যা মামলার ৩নং আসামীকে বিয়ানীবাজার থানার বারইগ্রাম বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ আমাদেরকে সহযোগীতা করেছে। আসামী ফাহাদ আহমদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। অপর পলাতক আসামী আলী হোসেনকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।