
সিলেটন জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্তকিত হামলায় মোঃ রাশেদ নামের এক যুবক নিহত রয়েছে। গত ০৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে নগরীর সুরমা টাওয়ারের সামনের রাস্তায় এঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সিলেট নগরীর ১০৯ কেওয়াপাড়া এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে পারভেজ খান জুয়েল ০২/১১/২০২৪ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৫/৪২৪, তারিখ: ০২/১১/২০২৪ইং।
মামলার আসামীরা হলেন-১। আসাদুজ্জামান খান কামাল (৬০), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ২। শফিকুর রহমান চৌধুরী (৬২), সাবেক সংসদ সদস্য (সিলেট-২), সাং- শাপলাবাগ, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ৩। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (৫৩). সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, পিতা- শাসমুল আলম চৌধুরী, সাং- ফরিদাবাদ, হাউজিং এস্টেট, থানা- এয়ারপোর্ট, জেলা- সিলেট, ৪। শামীম আহমদ উরফে ইউনিক শামীম (৫৫), সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবলীগ, সিলেট, ৫। সুজাত আলী রফিক (৪৮). সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সিলেট সদর, পিতা- অজ্ঞাত, সাং- ঘোপাল, থানা- জালালাবাদ, জেলা- সিলেট, ৬। আসাদ উদ্দীন আহমদ (৪৭), সহ সভাপতি, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, ৭। জাকির হোসেন (৩২), সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, ৮। আহমদ উল কবির (৪৫), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- শাহজালাল উপশহর, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ৯। তামিম আহমদ (৫০), সভাপতি, সিলেট চেম্বার অব কমার্স, সিনিয়র সদস্য, মহানগর আওয়ামীলীগ, সিলেট, ১০। রাহেল সিরাজ (৩২), সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ, সাং- ভাদেশ^র, মাইজভাগ, থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ১১। মিজানুর হোসেন (২১), সাধারণ সম্পাদক, ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট, পিতা-কবির আহমদ, সাকিন- বাঘারপাড়, শিমুলতলা, ডাকঘর-পাড়য়া-৩১৪০, থানা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ১২। রিমাদ আহমদ রুবেল (৪২), সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর যুবলীগ, সিলেট, পিতা- ঝুনু মিয়া, সাং- দারুস সালাম, খাসদবির, থানা- এয়ারপোর্ট, জেলা- সিলেট, ১৩। রেজওয়ান আহমদ (৫০), কাউন্সিলর, ৫নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা, সিলেট, পিতা- মৃত ফয়জুর রহমান (ফয়জু রাজাকার), সাং- ৭০, বড় বাজার, থানা- এয়ারপোর্ট, জেলা- সিলেট, ১৪। তৌহিদ আহমদ (৫০), কাউন্সিলর, ১৯নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, ১৫। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩২), পিতা- সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক, ৩নং খাদিমনগর ইউপি যুবলীগ, সাং-ফোকাস বি, উত্তর বালুচর (মধ্যম), সাদিপুর, থানা-শাহপরান (রহ), জেলা- সিলেট, ১৬। জাহাঙ্গীর (৪২), পিতা- অজ্ঞাত, কাউন্সিলর, ৩৫নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, সাং- মেজরটিলা, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা-সিলেট, ১৭। রুহেল (৩২), পিতা- অজ্ঞাত, কাউন্সিলর, ৩২নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, সাং- ভাটপাড়া, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ১৮। মেহেদি হাসান (২৫), সাংগঠনিক সম্পাদক, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ, পিতা- সিরাজ মিয়া, সাকিন- রাজারখাল, পোঃ পাড়–য়া-৩১৪০, থানা- কোম্পানীগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ১৯। শাহ অলিদুর রহমান (৫০), পিতা-অজ্ঞাত, চেয়ারম্যান, ৫নং সিলাম ইউপি, আওয়ামীলীগ নেতা, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট, ২০। আব্দুস সামাদ (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, যুবলীগ নেতা, সাং- মেজরটিলা, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২১। হান্নান (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, যুবলীগ নেতা, সাং- মেজরটিলা, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২২। অপু (৩০), পিতা- অজ্ঞাত, যুবলীগ নেতা, সাং- মেজরটিলা, থানা-শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৩। মিসবাহুল ইসলাম সুহেল (৪৫), পিতা- মাসুক মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা, সাং-বালুচর, থানা-শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, স্থায়ী ঠিকানা: সাং- মুরানন্দপুর, থানা- জকিগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ২৪। শাওন (৩০), পিতা-অজ্ঞাত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য, সাং- উপশহর, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৫। আবির আহমদ সুমন (৩৫), পিতা-তাহের মিয়া, যুবলীগ নেতা, সাং- রায়নগর মসজিদ গলি, শিবগঞ্জ, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৬। সালমান আহমদ (৩২), পিতা- শামসুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা, সাং-খাদিমপাড়া, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৭। শেখ নজরুল ইসলাম রেজওয়ান (৪০), পিতা- বদরুল ইসলাম বদই, সাং- শাহপরান আ/এ, খাদিমপাড়া, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৮। সৈয়দ সাবিয়র (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, সিলেট মহানগর যুবলীগ সদস্য, সাং-সৈদানীবাগ, খাদিমপাড়া, থানা-শাহপরান (রহঃ), জেলা- সিলেট, ২৯। মোহাম্মদ কবির আহমদ (৩২), পিতা-মোহাম্মদ সুরুজ আলী, সদস্য ১০নং কামাল বাজার ইউনিয়ন যুবলীগ, সাং- মুন্সিরগাঁও, থানা- দক্ষিন সুরমা, জেলা- সিলেট, ৩০। রাজু (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, যুবলীগ নেতা, সাং- শাহপরান আ/এ, থানা- শাহপরান (রহঃ), জেলা-সিলেট, ৩১। আব্দুল খালিক লাভলু (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট মহানগর যুবলীগ, সাং- ভাতালিয়া, থানা- কোতয়ালী, জেলা- সিলেট, ৩২। সালেহ আহমদ লুলু (৫৫), সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ নেতা, পিতা- মখলিছ মিয়া, সাং- কতোয়ালপুর পশ্চিমপাড়া,থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট, ৩৩। এজাজ আহমদ (৫০), সভাপতি, সিলেট জেলা শ্রমিকলীগ, ৩৪। তানভির আহমদ (৩৫), সাধারণ সম্পাদক, ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ, সাং- কালীবাড়ী, থানা- জালালাবাদ, জেলা- সিলেট, ৩৫। ফরহাদ আহমদ (৫০), পিতা- আনা মিয়া, সভাপতি, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, সাং- লাখাউড়া, থানা- এয়ারপোর্ট, জেলা- সিলেট, ৩৬। মহসীন চৌধুরী (৫৫), পিতা- আল আমীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, সাং- উচা সড়ক, কাজীটুলা, থানা- কোতয়ালী, জেলা- সিলেট, ৩৭। সামছুল ইসলাম (৪৮), পিতা- অজ্ঞাত, সাবেক দপ্তর সম্পাদক, সিলেট জেলা ওয়ামীলীগ, সাং- শাহী ঈদগাহ, থানা-এয়ারপোর্ট, জেলা- সিলেট, ৩৮। জাকির হোসেন জুবেল (২৮), পিতা- তৈয়ব আলী, সাং-খাউড়া, থানা-এয়ারপোর্ট, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য, ৩৯। সেবুল আহমদ পুকাশ সাগর (৪০), পিতা- রফিক মিয়া, সাং- ৪ আল আমীন, চারাদিঘীরপাড়, সভাপতি, ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ, থানা- কোতয়ালী, জেলা- সিলেট সহ অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামীগণ একদলবদ্ধ, সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ, আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর লোক। তাহারা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় ঠিকিয়ে রাখার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর নির্মম নির্বিচারে গণহত্যাসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। পক্ষান্তরে আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী এবং আন্দোলনকারী। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। অত্র মামলার ১-৭নং আসামীগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় ও হুকুমে সমূহ আসামীগণ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় ঠিকিয়ে রাখতে ঘটনার তারিখ ও সময় অর্থাৎ বিগত ০৫/০৮/২০২৪ইং তারিখ সকাল অনুমান ১১:৪০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল সুরমা টাওয়ারের সামনের রাস্তায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়া ঝাপিয়ে পড়ে এবং আন্দোলনরত কোটাবিরোধী ছাত্রজনতার উপর মুহুর্মূহু গুলি ও ককটেল ফুটাইয়া জনমনে আতংক তৈরী করে এবং ১-৭নং আসামীগণের হুকুমে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী বাহিনী ও কতেক অজ্ঞাতনামা পুলিশ অফিসার হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী চলাকালীন সময়ে আমি সহ ২০০/৩০০ জন কোঠা বিরোধী মিছিল দেওয়ার সময় হঠাৎ এজাহারে বর্ণিত আসামীগণ দা, কুড়াল, রুইল, রড, বন্দুক, পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ১-৭নং আসামীগণের নির্দেশে নিরীহ ছাত্র জনতার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ৭নং আসামী ভারত হইতে অবৈধভাবে অস্ত্র আনিয়া আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে সরবরাহ করে। ৮, ৯, ১২, ১৬, ১৭, ২৮-৩৬ নং আসামী তাহাদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া এলোপাতাড়ীভাবে গুলি করে। উক্ত গুলি ভিকটিম মোঃ রাশেদ-এর সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনুমান ১০০-১৫০টি স্প্রিন্টার গুলিবিদ্ধ হয়। ১৮, ২৩, ৩৮নং আসামী তাহাদের হাতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাইয়া এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়া আন্দোলনকারীদেরকে মারধর করিয়া জনমনে আতংক তৈরী করে। অপরাপর আসামীগণ দা, রুল, রড ইত্যাদি দিয়া আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে এলোপাতাড়ী মারপিট করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তাৎক্ষনিক আহত ১নং স্বাক্ষী মোঃ রাশেদ নিরাপত্তাজনিত কারণে ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিগত ০৬/০৮/২০২৪ইং তারিখে রাশেদের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে দ্রুত সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর জখমী মোঃ রাশেদ ২৯/১০/২০২৪ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় মৃত্যুবরণ করে। বিষয়টি নিহত মোঃ রাশেদ এর পরিবারের সদস্যদের অবগত করিলে তাহারা হাসপাতালে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে নিহত মোঃ রাশেদ এর লাশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাহার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আক্রমন করিয়া নিরীহ ছাত্রদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়া আক্রমন করিয়া মোঃ রাশেদকে গুলি করিয়া হত্যা করেছে।