• ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিয়ানীবাজার কলেজে মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম নিয়ে শিক্ষার্থীর বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষুব্ধ শিবির-ছাত্রদল

admin
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৫
বিয়ানীবাজার কলেজে মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম নিয়ে শিক্ষার্থীর বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষুব্ধ শিবির-ছাত্রদল

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘মুক্তিযুদ্ধ এবং ইসলাম’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এক শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের হামলার শিকার ঐ শিক্ষার্থীর নাম ইবাদুর রহমান। তিনি জাসদ ছাত্রলীগ কর্মী এবং বিতার্কিক হিসেবে পরিচিত। গতকাল (২৬ শে মার্চ) কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটেছে৷

জানা যায়,স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কলেজ প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দেন বিতার্কিক ইবাদুর রহমান। তিনি তার আলোচনার শুরুতে শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া-লও লও লও সালাম’-বলে শ্লোগান তুললে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়ায়৷ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও ইবাদুর রহমান তার বক্তৃতা চালিয়ে যান৷

তিনি বলেন,’১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আর সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। কাজেই,শেখ মুজিবুর রহমান,জিয়াউর রহমান,জেনারেল এম এ ওসমানি সহ যাঁরাই মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের অবদান ও সংগ্রামকে আমাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে। ভাস্কর্য ভেঙ্গে,পাঠ্যপুস্তক থেকে নাম মুছে ইতিহাস থেকে কাউকে মুছে ফেলা যাবে না।’

এসময় ইবাদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত সহ অনেক ইসলামী দল তখন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল। তারা মুক্তি সংগ্রামকে অবজ্ঞা করার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করেছিল৷ তারা এখনও স্বাধীন বাংলাদেশকে ইসলামী ধর্ম রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। তারা ভাস্কর্য,মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাংচুর করছে। অথচ,এই দেশ ইসলামের জন্য স্বাধীন হয়নি। ইসলাম চাইলে দেশের মানুষ মুক্তি পেত না। এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের। যারা ইসলাম,ইসলাম বলে নিজেদের মতাদর্শ অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়-বাংলাদেশ তাদের দেশ নয়। ধর্ম নিরপেক্ষতাই বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হওয়া উচিত।’

তার এ বক্তৃতার সময় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা চরম হট্রগোল সৃষ্টি করেন। তার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেন। তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন শিবির ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তখন কয়েকজন শিক্ষক এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগে সহযোগিতা করেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়েরের সংবাদ পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আহবাব হোসেন মুরাদ বলেন, ইবাদুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। সে আওয়ামীলীগের দোসর। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনার নামে সে চরম ইসলাম বিদ্বেষী বক্তৃতা দিয়েছে। তার বক্তৃতা ধর্মপ্রাণ শত শত শিক্ষার্থীর অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই,আমরা এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি ভাবছি।

ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ বলেন,’জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক-এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু,ইবাদুর রহমান তার বক্তৃতায় এটি স্বীকার করেনি। সে আওয়ামীলীগের দোসর। কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি তাকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া। আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছি৷