
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জালালাবাদ এলাকায় ভালোবাসা দিবসের এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্বের অপরাধে নয়ন গোমেজ (২৫) নামের এক খ্রিস্টান তরুণকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ করে স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে উগ্রপন্থী হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা।
গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার বড়শাতানী গ্রামের নরবাট গোমেজের পুত্র নয়ন গোমেজ এবং তার সহকর্মী ফারজানা আক্তার শুভা সিলেট জালালাবাদ পার্কে ঘুরতে যান। তারা দুজনেই এনজিও সংস্থা ‘ব্র্যাক’-এ কর্মরত ছিলেন এবং সেই সুবাদে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্ক থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ ৩/৪ জন দাড়ি-টুপি পরিহিত উগ্রবাদী যুবক তাদের গতিরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই আরও ১৫/২০ জন সেখানে জড়ো হয়ে নিজেদের হেফাজতে ইসলামের কর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়।
মসজিদে নারকীয় নির্যাতন:
উগ্রপন্থীরা তরুণী ফারজানাকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিলেও নয়নকে টেনে-হিঁচড়ে ‘টুকেরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে’ নিয়ে যায়। সেখানে মসজিদের ইমাম ও হেফাজত নেতাদের নির্দেশে নয়নের হাত-পা বেঁধে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু শারীরিক নয়, তাকে জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের জন্য মানসিক চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মসজিদের বাইরে তখন শত শত উগ্রবাদী স্লোগান দিচ্ছিল— “খ্রিস্টান নাসারার রক্ত চাই, ইসলামের অপমান সইব না।”
পুলিশের ভূমিকা ও গণপিটুনির চেষ্টা:
খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উগ্রপন্থীরা মসজিদের তালা ভেঙে নয়নকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। প্রায় ৩ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর পুলিশ কৌশলে নয়নকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু সাধারণ জনতা থানা ঘেরাও করে নয়নকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরবর্তীতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপ ও অনুরোধে পুলিশ নয়নকে রাতভর থানা হেফাজতে রাখে।