• ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হাজীগঞ্জে সাইফুল ইসলাম হত্যার ১০দিন পর থানায় মামলা

admin
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৪
হাজীগঞ্জে সাইফুল ইসলাম হত্যার ১০দিন পর থানায় মামলা

নিহত সাইফুল ইসলাম (ফাইল ছবি)

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি : গত ৯ আগস্ট দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষুব্ধ জনতা হাজীগঞ্জ থানা আক্রমণকালে গুলিতে নিহত জামায়াতকর্মী সাইফুল ইসলাম (২৫) হত্যা ঘটনার ১০ দিন পর ১৯ আগস্ট সোমবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে ক্ষমতাচূত আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২০জনের নাম উল্লেখ্য এবং অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়। থানা থেকে প্রকাশ্যে চালানো পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামী করার ঘটনায় জনমনে প্রশ্নের দেখা দিলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ অভূত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো চাদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যনারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের বিক্ষুদ্ধ লোকজন আওয়ামী লীগের লোকজনের অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এখনো পর্যন্ত থেমে থেমে সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তন্মধ্যে, গত ৯ আগস্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বেলা ২টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েক শতাধিক লোকজন জড়ো হয়। হঠাৎ করে তারা মিছিল সহকারে লাঠিসোটা নিয়ে হাজীগঞ্জ থানা আক্রমণ করতে যায়। তারা থানার গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে থানার ভিতর এলোপাতাড়ি হামলা ও ভাংচুর চালায়। এক পর্যায় থানা কম্পাউন্ডে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের উপর হামলা চালাতে যায়। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় ১০ জন আহত হন। তন্মধ্যে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর রক্ষাক্ত আহত সাইফুল ইসলাম নামের এক জামায়াত কর্মীকে মূমুর্ষ্যূ অবস্থায় উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার ১০দিন পর ১৯ আগস্ট সোমবার রাতে নিহত সাইফুল ইসলামের পিতা ময়নুল ইসলামকে বাদী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০৫, তারিখ ১৯/০৮/২০২৪ইং, ধারা ১৪৭/১৪৯/৩০২/১১৪/১০৯/৩৪। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী মামলাটি রেকর্ড করেন। নিহত সাইফুল ইসলাম হাজীগঞ্জ উপজেলার বাউড়া গ্রামের ময়নুল ইসলামের পুত্র। নিহত সাইফুল ইসলামকে তাদের দলীয় কর্মী বলে দাবী করেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতা থানায় হামলা করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সাইফুল ইসলাম। কিন্তু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা নিহতের পিতাকে ভুল বুঝিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আসামী করে এই মামলাটি দায়ের করিয়েছেন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। তবে দেশের পরিবর্তিত অস্থিতিশীল এই সময়ে ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক মুরাদ, সাবেক সভাপতি মোঃ মাসুদ আলম মজুমদার, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আশফাকুল আলম চৌধুরী, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আলহাজ্ব আহসান হাবীব অরুন, সহ-সভাপতি আলী আশরাফ দুলাল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়াজী, প্রচার সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মিয়াজি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিনার মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম গাজি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাইম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের আহবায়ক বাদল খন্দকার, হাজীগঞ্জ উপজেলার বাউড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ভূইয়ার পুত্র ময়নুল ইসলাম ভূইয়া, শাহরাস্থি উপজেলার চেঙ্গাচাল গ্রামের সেকান্দার আলীর পুত্র মোঃ রাশেদ. শাহরাস্থি উপজেলার মেহেরপুর গ্রামের ময়নুল মিয়ার পুত্র বদরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা ঘোষপুর গ্রামের নিজাম মজুমদারের পুত্র মায়নুল হোসেন মজুমদার, কাজিরগাও গ্রামের নজরুল ইসলাম গাজির পুত্র নয়ন গাজি ও সুহিলপুর গ্রামের মানিক মিজির পুত্র খলিল উদ্দিন মিজি এবং অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০জন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান চৌধুরীরকে থানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। থানার অন্য কোন কর্মকর্তা এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।