
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে মহিলা কলেজ ছাত্রী তান্নিকে জোরপূর্বক অপহরণ, গাড়িতে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ০৭ আগষ্ট ২০২৩ইং তারিখে সিলেটে মহিলা কলেজের সিএনজি স্ট্যান্ডে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এই অভিযোগ করেন তান্নির বড়ভাই মো: সাদিকুজ্জামান শাওন।
অভিযুক্তরা হলেন-১। গিরিজা কান্ত দে, পিতা-প্রিয়তোষ দে, সাং-মনোহরপুর, থানা: বালাগঞ্জ, জেলা: সিলেট, ২। সুরঞ্জিত চন্দ্র দাস, পিতা-পুলিন্দ্র চন্দ্র দাস, সাং-মুরাবা, ডাকঘর: বড়লেখা, থানা: বড়লেখা, জেলা: মৌলভীবাজার, ৩। মো: আব্দুল ওয়াদুদ নোমান, পিতা: আব্দুল খালিক, সাং-বানুগাছ, থানা: শ্রীমঙ্গল, জেলা: মৌলভীবাজার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাদিকুজ্জামান শাওনের বোন তান্নি বেগম সে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত ছিল। সে উক্ত কলেজের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করিতেছে। গত ০৮/০৫/২০২৩ তারিখে তার বোনের খোঁজ খবর নিতে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে যায়। কলেজে গিয়ে জানতে পারে তার বোন বিগত ০৭/১০/২০২২ তারিখে কলেজের হোস্টেল থেকে বাহির হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে বাড়িতে যায় নাই। তখন সাথে সাথে তার পরিবারের সকলের সাথে যোগাযোগ করি এবং ঘটনা সম্পর্কে জানাই। তখন আমি ও আমার পরিবারের লোকজন আমাদের সকল আত্বীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ তান্নির কোনো সন্ধান পাইনি। শাওন কলেজের আশপাশের দোকান ও সিএনজি স্টেশনের ড্রাইভার এবং তাদের অফিসে খোঁজখবর নিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারে বিগত ০৭/১০/২০২২ তারিখে ৩/৪ জন অপরিচিত লোকজন তান্নিকে মেয়েকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাস গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে তখন ঘটনাস্থলের লোকজন জড়ো হয়ে উপরোক্ত অপহরণকারীকে আটক করে এবং উপস্থিত লোকজন তাহাদেরকে মারধর করা করে। তখন অতারা উল্লেখিত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে এবং বলে যে, তান্নি বেগম তাদের নিকট আত্বীয় হয়। সেই মেয়েটির না কি মানষিক সমস্যার হওয়ায় কলেজ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছে। তখন উল্লেখিত অপহরণকারীরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সিএনজি অফিস কক্ষে জমা দিয়ে বলে মেয়েটির কোনো সমস্যা হবে না বলে উপস্থিত লোকজনকে আস্বস্থ করে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। কিন্তু আসলে উপরোক্ত অপহরণকারীরা শাওনের কেউ নয় বা কোনো আত্বীয়স্বজনও নয়। এরা একটি অপহরণকারী সক্রিয় চক্র ও প্রতারক চক্র। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে মানুষজনকে প্রতারিত করে আসছে। কিন্তু ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও তান্নির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন শাওনের পরিবার।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, কলেজ ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ‘ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ওই কলেজছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে।’