
যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের কর্মী ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভিন্ন অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবের বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যস্থ মানবাধিকার সংগঠন ‘ফাইট ফর জাস্টিস ইন বাংলাদেশ’র সভাপতির দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ সংগঠনের ফেইসবুক পেইজে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ ২০২৩ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, একটি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করে এবং তাকে প্রায় দুই মাস কারাভোগ করতে হয়। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তিনি মামলা থেকে খালাস পান এবং তার মোটরসাইকেলসহ সবকিছু ফেরত পান।
তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে সংবাদটির সত্যতা না থাকায় তা সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনও কিছু স্ক্রিনশট ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক মামলার সম্পর্ক ছিল না।
জুলাই ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মব সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন সোহাগ। তিনি বলেন, সে সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে অবস্থান নেন এবং এ সময় আহতও হন।
পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি ও চাপের মুখে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে আসেন বলে জানান তিনি।
বিবৃতিতে আসাদুজ্জামান শাফি প্রসঙ্গে সোহাগ বলেন, যুক্তরাজ্যে আসার পর তার সঙ্গে একটি ছবি তোলা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসার পর ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করেন এবং আসাদুজ্জামান শাফির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ তার বিবৃতিতে আরও বলেন, “আসাদুজ্জামান শাফির সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল তার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সত্য ও ন্যায় শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।