• ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা খুন

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২৪
কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা খুন

হোমনা, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্তার মিয়াকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে খুন করেছে স্থানীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মী। ৭ আগস্ট বুধবার রাত ৮টায় হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ছাত্তার মিয়া স্থানীয় জয়পুর গ্রামের ওহেদ আলীর পুত্র। দেশের এই অরাজক পরিস্থিতিতে থানায় পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ না থাকায়, নিহতের স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। মর্মান্তি এই ঘটনায় তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

জানা যায়, গত ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে সারাদেশের মতো হোমনা উপজেলায়ও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর লোকজন অরাজক নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট রাতে স্থানীয় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর একটিদল আওয়ামী লীগ নেতা ছাত্তার মিয়ার জয়পুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বসতঘরে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে আসে ছাত্তার মিয়াকে যেখানে পাবে সেখানেই খুন করবে বলে। এরপর থেকে ছাত্তার মিয়াসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনার দিন ৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে স্থানীয় ঘাড়মোড়া বাজারে হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা ছাত্তার মিয়াকে পেয়ে যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন। এসময় তাকে ধরে নিয়ে আসা হয় বিএনপি নেতা হাবিব সারওয়ার ও ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিন খা’র কাছে। তখন এই নেতাদের নির্দেশে বিএনপির লোকজন বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে লাঠি, লোহাররড দিয়ে পিঠিয়ে ছাত্তার মিয়াকে নৃশংসভাবে খুন করে। প্রকাশ্য ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হতে দেখলেও ভয়ে তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারীরা তার মৃত্য নিশ্চিত করে উল্লাস করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে নিহতের স্বজনরা এসে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন সকাল ১১টায় জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। তবে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর মাঝেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, কিন্তু কেউই দেশের এই অরাজক পরিস্থিতিতে মুখ খুলছেন না।