
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই নিরিহ ব্যবসায়ী মোশতাকের বসতঘর। এতে তিনিসহ তার ছেলে আহত হলেও কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪নং রোডের ৫২নং বাসায়।
মোশতাক আহমদ তাফাদার (৬০) জকিগঞ্জের সেনাপতির চক গ্রামের মৃত আব্দুল মালিক তাফাদারের ছেলে।
অগ্নিকাণ্ডে তিনি ও তার ছোটো ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৭) আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘন্টাখানেক চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষনে সব ছাই।
এ ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০/১২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মোশতাকের স্বজন ও ফায়ার সার্ভসের কর্মকর্তারা।
থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোশতাক দীর্ঘদিন থেকে সুরমা আবাসিক এলাকার বাসায় পরিবার নিয়ে বাস করলেও গত ২ বছর ধরে ছোটো ছেলেকে নিয়ে অজ্ঞাত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালেই তারা গোপনে বাসায় ফিরেন।
তিনি এলাকায় একজন নিরিহ ভালমানুষ হিসাবে পরিচিত এবং সৎ ব্যবসায়ী হলেও নগরীর উপশহরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে চোরাকারবারী ও সন্ত্রাসী শাহ শরীফ উদ্দিনের (৩৮) সঙ্গে তাদের পূর্ব বিরোধ ছিল।
শরীফ প্রায়ই হুমকি ধমকি দিতেন- এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি (জিডিও সাধারণ ডায়রি) করেছিলেন মোশতাক। এতে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে শত্রুতায় পরিণত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের আগে শরীফ ও তার বাহিনীর অন্তত ৫/৬ জন সদস্যকে বাড়িটির আশপাশে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ থেকে মোশতাকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সন্দেহ, অগ্নিকাণ্ডের সাথে শরীফ ও তার বাহিনী জড়িত থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে মোশতাক কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও গত ৫ আগস্টের পর থেকে থানা প্রায় পুলিশ শূন্য। তাই অভিযোগ না দিয়েই তিনি ফিরে আসতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর থেকে ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন মোশতাক ও তার ছেলে ফখরুল।
মোবাইলে আলাপকালে এই প্রতিবেদক কে মোশতাক জানান, থানা পুলিশ মন্ত্রী এমপি সব শরীফের পকেটে। আমার বাসা সে ই তার লোকজনকে দিয়ে পুড়িয়েছে। আমাকে ও আমার ছেলে ফখরুলকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে সে বাসা পুড়িয়ে দিয়েছে।
ছেলেকে নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন মোশতাক।