• ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ অভিযোগ, হামলা: নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১১, ২০২৫
সিলেটে প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ অভিযোগ, হামলা: নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট সদর উপজেলায় প্রবাসী এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ এবং তার পরিবারের ওপর হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মো: রাজিক মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সিলেট সদর উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার পরিবারের দাবি, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী থানায় সি.আর. মামলা নং ৪২৭/২০২৫ ইং দায়ের করা হয়, যা পরিবার ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছে।

পরিবার জানায়, গত গতকাল ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ১০-১২ জন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে রাজিক মিয়ার অবস্থান জানতে চায়। তিনি প্রবাসে আছেন জানানো হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তাদের ওপর চাপ, হুমকি ও নজরদারি বাড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দফা বাড়িতে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে—রাজিক মিয়াকে পেলে হত্যা করা হবে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার দাবি করেছে, একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো নিরাপত্তা বা তদন্তের অগ্রগতি পাননি।

রাজিক মিয়ার বাবা বলেন,“আমরা দিনের পর দিন আতঙ্কে আছি। বাড়িতে থাকতে ভয় লাগে। প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

পরিবারের আশঙ্কা, রাজিক মিয়া দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করে ‘প্রহসনমূলক’ বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে, এমনকি তার জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।