
প্রবাসে অবস্থানরত এক যুবকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক লেখা এবং পোস্ট প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোঃ হোসাইন আহমদ। সে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কাঠালতলী উত্তর গ্রামের লুৎফুর রহমানের পুত্র। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত হোসাইন আহমদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (জেনারেল সেক্রেটারি) হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তিনি প্রবাসে থাকলেও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি প্রবাসে থেকেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং সেই সব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এসব পোস্ট ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা দ্রুত স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নজরে কাড়ে। স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, হোসাইন আহমদের প্রকাশিত পোস্টগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো গুরুতর বক্তব্য রয়েছে। তাদের মতে, প্রবাসে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে উস্কানি দেওয়া এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টার জন্য তাকে আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এলাকাভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন মহলও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার এমন অপপ্রচার চালানো হলে তা সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয় অন্য একটি পক্ষ এই অভিযোগকে ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও মত প্রকাশ করা যে কোনো নাগরিকের অধিকার এবং এটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে পুরো বড়লেখা উপজেলা জুড়ে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের কেউ কেউ এটিকে সাধারণ রাজনৈতিক মত প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, সিংহভাগ মানুষই প্রবাস থেকে এমন উস্কানিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন। জানা গেছে, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।