
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে ট্রাভেলস ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের উপর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তৌফিক বক্স লিপনের অনুসারীদের নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি ও অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে কুমিল্লায় তৌফিক বক্স লিপনের কয়েকজন সন্ত্রাসীরা জাহিদুল ইসলামের ভাই মো: নাহিদ চৌধুরীকে কুমিল্লা দেবিদার থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে জাহিদুল ইসলামের বাবা মোঃ সায়েক চৌধুরী তৌফিক বক্স লিপনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তোমার ছেলেকে বাঁচাতে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। তবে পুলিশ কাছে যদি আমার নামে মামলা করতে চাও তাহলে তোমার ছেলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলব। এসব কথা শুনে মোঃ সায়েক চৌধুরী সাথে সাথে জাহিদুলের কাছে টাকা দিতে বললেন তখন জাহিদুল ইসলাম টাকা দিতে পারবে না জানান পরবর্তীতে দিবেন। পরে তৌফিক বক্স লিপনের সাথে মোঃ সায়েক চৌধুরী যোগাযোগ করলে তিনি বলেন তোমার বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং কানাডা থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা দিতে হবে। যদি না দেয় তাহলে তোমার ছেলে দেশে ফিরে আসলে এয়ারপোর্ট থেকে গুম করে ফেলবে। এক পরজায়ে সায়েক চৌধুরী জাহিদুল ইসলামে মার কিছু সোনা বন্দক রেখে টাকা নিয়ে যায়। ঘটনায় ৩ দিন পর হটাৎ তৌফিক বক্স লিপন বিগত ০৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভোরে ফোন দিয়ে বলে টাকা দিয়ে যাও আর তোমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাও। ঐদিন সন্ধ্যার দিকে আমার ছেলেকে একটি জায়গায় ফেলে যায়। তাকে আনতে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে তাদের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ, তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল ইসলামের সাথে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্ত নেতা ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে অশালীন আচরণ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং ভবিষ্যতে মামলা বা অভিযোগ করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঘটনার পর পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে তৌফিক বক্স লিপনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলামের মোঃ সায়েক চৌধুরী বলেন, তৌফিক বক্স লিপনের সন্ত্রাসীরা হটাৎ করে কুমিল্লায় গিয়ে আমার ছেলে নাহিদ চৌধুরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ছেলেকে উদ্ধার করতে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। তারা বলে যে, আমার ছেলে তারা অপহরণ করার ঘটনায় মামলা করতে তারা আমার ছেলে হত্যার করে ফেলবে এবং আমার কানাডা প্রবাসী ছেলে জাহিদুল ইসলাম দেশে আসলে তারা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। তাদের ভয়ে আমার পরিবার চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে।