
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, দেহ ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কমতলী গ্রামের শাহাব উদ্দিন এর ছেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেপরোয়া অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, আর যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন সেক্টর ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে প্রতিনিয়ত।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু চাঁদাবাজিই নয়—মাদক বাণিজ্যকে ও দেহ ব্যবসাকেও নীরবে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে একটি অসুস্থ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে পুরো এলাকায়। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে, অথচ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না কেউ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মিজানুর রহমানসহ কিছু ব্যক্তি নিজেদের “অপ্রতিরোধ্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। আইন ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে দাপটের সঙ্গে চলা এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, রাজনীতি যদি জনগণের সেবা না করে বরং সাধারণ মানুষের ওপর ভয় ও চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি কখনোই সুস্থ রাজনীতির উদাহরণ হতে পারে না।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধী যেন পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।