
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১০নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মো. আব্দুল কাদির ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মো. আব্দুল মলিকের বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্দ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আছিরগঞ্জ বাজার থেকে তৌহিদি জনতার ব্যানারে একদল লোক মিছিল নিয়ে বাদেপাশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমকুনা গ্রামে কাদির- মলিকের বাড়িতে যায়। তারা প্রথমে বাড়িটি ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এর আগে তারা কাদিরের মালিকানাধিন আছিরগঞ্জ বাজারের স’মিলটিও লুটপাট করে পুড়িয়ে দিয়েছে।
এসময় বাড়িতে কোনো পুরুষ ছিলেন না। মহিলা ও শিশুরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে গিয়ে দু’জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে আছিরগঞ্জ বাজারে গোপনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১০নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুল কাদির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ডানহাত হিসাবে এলাকায় পরিচিত।
আর হাজী মো. আব্দুল মলিক তার বড় ভাই এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
ওই এলাকায় গেলে নাহিদ নিয়মিত তাদের বাড়িতে উঠতেন এবং খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রাম করতেন।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তাদের দহরম মহরম নিয়ে এলাকায় অনেক বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী মত দমনে নাহিদের নির্দেশে তারা অনেক নির্যাতন নিপিড়নের সাথে জড়িত বলেও বারবার অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি, তাদের বিরুদ্ধে নানান আর্থিক কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে।
এসব কারণে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি ছাত্রদল জামায়াত ও শিবির কর্মীরা মিলে তৌহিদি জনতার ব্যানারে মিছিল নিয়ে কাদিরের বাড়িতে যায়। পথে তারা তার স’মিল ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেটি পুড়েগেছে।
বাড়িটি সম্পূর্ন না পুড়লেও সেটি এখন আর বসোবাসের উপযোগী নয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই কাদির, মলিক ও তার ছেলে আব্দুল বাছিত আত্মগোপনে।
কাদির-মলিকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানাপুলিশ নিস্ক্রিয় থাকায় কারও কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে বাদেপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন উদ্দিন বলেন, বাড়ি পোড়ানোর সাথে বিএনপি-ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই। সবাই দেখেছে, ১৬ বছর ধরে নির্যাতিত মানুষ তৌহিদি জনতার ব্যানারে মিছিল নিয়ে সেখানে গেছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছালেহ আহমদ বলেন, এর সাথে জামায়াত শিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।