• ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লামাকাজীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২৪

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লামাকাজী ইউনিয়নের লামাকাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের পক্ষে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এমপি প্রার্থী মোকাব্বির খানের কর্মী মো. ইফতেখার হোসাইন অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কনক পাল অরুপ, বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পার্থ সারথী দাশ পান্থসহ স্থানীয় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী গত শনিবার (৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে লামাকাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। সেখানে তারা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে বেশ কিছু সময় ধরে জাল ভোট দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, জাল ভোট দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এমপি প্রার্থী মোকাব্বির খানকে অবহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। মোকাব্বির খানকে বিষয়টি জানানোর কিছু সময় পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তবে সংবাদকর্মী ও স্থানীয় কোনো নেতাকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তার দাবি, এর অর্থ কেন্দ্রের ভেতরে প্রচুর জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।

মো. ইফতেখার হোসাইন আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষের আলো দেখে তিনি এগিয়ে গেলে আনসার সদস্যদের পাহারায় কয়েকজনকে দ্রুতগতিতে জাল ভোট দিতে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে দলীয় কর্মী মো. ওলিউর রহমান ও মো. পারভেজ হোসেনও ছিলেন। তারা কেন্দ্রের মেঝেতে ব্যালট পেপার পড়ে থাকতেও দেখেছেন বলে দাবি করেন।

গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান বলেন, “একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোটের আশায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশা আস্তে আস্তে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জাল ভোট দিতে দেখেছে, প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নৌকা প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে জাল ভোট চলছে। তারা জেনে গিয়েছিল যে তাদের পরাজয় ঠেকানো যাচ্ছে না, তাই তারা লামাকাজীসহ একাধিক কেন্দ্রে জাল ভোটের এক অনন্য নজির স্থাপন করে জাল ভোট দিচ্ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, আপনারা এই অনিয়ম বন্ধ করুন। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু যা ঘটছে তা ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পার্থ সারথী দাশ পান্থের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পলাশ কুমার দত্ত দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রের বুথগুলো এবং পুরো কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। আগামীকাল (৭ জানুয়ারি) সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হবে। রাতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা কেন্দ্র পাহারায় থাকবেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে প্রায় আট লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রয়েছেন দুই হাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণের সময় কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে।