
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত গৌছ উদ্দিন হত্যার ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) গৌছ উদ্দিনের ভাতিজা রেজাউল করিম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন (নং-০৮/১৩৬, ২৩-০৮-২০২৪)।
মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদকে প্রধান আসামি করে সাবেক মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, রুহিন আহমদ খান, রণকেলী দিঘীরপার গ্রামের মৃত মাসুক আলীর ছেলে কামরান আহমদ (৪৫), গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মান্না আহমদ (৩০), ফুলবাড়ি পূর্বপাড়ার সুমন আহমদ ওরফে আবাদি সুমন (৪০) সহ মোট ১৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা রেখে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখিতদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকজন আসামি হলেন, ঘোগারকুল গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ও যুবলীগ নেতা লাভলু (৪০), কায়স্থগ্রামের মৃত ফজলুল হক লেচু মিয়ার ছেলে মনিরুল হক পিনু (৩২), গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঘোষগাঁও নওয়াটুল গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৩), গোলাপগঞ্জ পৌরসভার স্বরসতি এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলাম সাহেদ, স্বরসতি কামারগাঁওয়ের চয়ন রঞ্জন দাস (৩২), পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুস শহিদ শাওন, রণকেলী নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন সিপন, হেতিমগঞ্জের জিলু মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা হাম্মাদ আহমদ (৩৫), ৩নং ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ খান, ঘোগারকুলের মৃত আতাই মিয়ার ছেলে বাহার (৪৫), বাঘরখলা গ্রামের রজাই মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা মাহবুব (৩০), গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ বাঘা গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আর্জমন্দ আলী (৫৫), যুবলীগ নেতা ও টিকরবাড়ি গ্রামের মৃত পাখি মিয়ার ছেলে অপু খান (বদই), গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের ১নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিটা ফুলবাড়ী উত্তরবাজার এলাকার মৃত শামীম আগমদের ছেলে রাব্বি (২০), গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দাড়িপাতন (শেখানী) গ্রামের জিলু মিয়ার ছেলে তানিম আহমদ সানি (৩৩), গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও রণকেলী নয়াগ্রামের মৃত মজন আলীর ছেলে দিদার (৩০), গোলাপগঞ্জ পৌর যুবলীগ নেতা পশ্চিম দাড়িপাতন গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে রুমেছ আহমদ (২৩), টিকরবাড়ি গ্রামের রুবেল আহমদ (৩৩), ৬নং ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রায়গড় বটরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওযাদুদের ছেলে সুমন আহমদ (৩৯), বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের দেবারাই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও জেলা যুবলীগ নেতা আবুতাহের মোহাম্মদ ইয়াহইয়া (৩৫), চৌঘরী গ্রামের মৃত মতিন মিয়ার ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সৌমিক শাহরিয়ার (২৪), রণকেলী গ্রামের জুনাব আলীর ছেলে জাকির হোসেন (৩০) গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও রণকেলী দিঘীরপার গ্রামের মছলু মিয়ার ছেলে সুহেল আহমদ (৩২), যুবলীগ নেতা ও বাঘা উত্তর গোলাপনগর সোনারটুলা গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মাহমুদ আহমদ (৩০), স্বরসতি কামারগাঁওয়ের মৃত ছইদ আলীর ছেলে তানভীর (৩২), একই গ্রামের মুরাদ (২৬), দাড়িপাতন শেকানী গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আহমদ (৫০), বাঘা সোনারটুল গোলাপনগর গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াজিদের ছেলে জুমন আহমদ (২৩), বুধবারী বাজার ইউনিয়নের এমদাদ (৩০), স্বরস্বতি কামারগাঁওয়ের লুতু মিয়ার ছেলে সাইফুল (২৬), পাটানটুলা সিলেটের আলী আকবর খানের ছেলে বাবলু খান, আওয়ামী লীগ নেতা ও লামা ঘাগুয়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৪৭), গোলাপগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লক্ষিপাশা গ্রামের মৃত শফিক চৌধুরীর ছেলে আব্দুল হাই চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ নেতা, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফজলুল আলম ফজলু (৫০), গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও রণকেলী নয়া গ্রামের মৃত নইম আলীর ছেলে জাকারিয়ার আহমদ পাপলূ, ঢাকাদক্ষিণ কানিশাইল গ্রামের মাখল মিয়ার ছেলে সেলিম আহমদ মেম্বার (৫০), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের আজমল হোসেন মনি (৪০) আওয়ামী লীগ নেতা ও ৯নং পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ হাসিন আহমদ মিন্টু, দক্ষিণ রায়গড় গ্রামের মৃত ছখাই মিয়ার ছেলে সেলিম আহমদ (৫৬), একই গ্রামের উত্তরকান্দি পাড়ার মৃত মস্তকিন আলীল ছেলে সাহাব উদ্দিন (৫৮), নগর গ্রামের আরব আলীর ছেলে জমিল আহমদ (৫০), উপশহর বি ব্লকের ১৫ নং রোডের ১৩নং বাসার দিলাল আহমদের ছেলে আবুল হাসনাত (৩৫), বাঘা সোনাপুর গ্রামের বশির আলীর ছেলে আলীম উদ্দিন (৪০), একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ছানু মিয়া (৫০), হাজিপুর লরিফর গ্রামের মো, খিজির মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সুমন আহমদ (৩৯), বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনার মৃত হারিছ আলীর ছেলে আলীম উদ্দিন বাবলু (৪৫), বিয়ানীবাজারের দেবারাই গ্রামের লোকমান আলীর ছেলে মোহাম্মদ আবু সাইদ (৩৩), শেখপুর গ্রামের শরফ উদ্দিনের ছেলে আবু সুফিয়ান উজ্জল (৩৫), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার সদু মিয়ার ছেলে এমরান আহমদ (৩৫), আমুড়া ইসলামটুল গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা ও ফারুক আলীর ছেলে নিপুল আহমদ (৪০), গোলাপনগর পশ্চিমগাঁওয়ের মৃত রফিক উদিনের ছেলে ও বাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ (৪৫), তৈফুর গ্রামের আব্দুস সামাদ জিলু (৫৫), বাঘা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কান্দিগাঁও গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে কামাল, ফুলবাড়ী পূর্বপাড়ার ইকবাল আহমদ চৌধুরীর ছেলে হুমায়ুন চৌধুরী একলিন (৫৫) প্রমুখ।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. আব্দুল নাসের।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগের দিন (৪ আগস্ট) গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি এবং সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন নিহত হন।