• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিরাইয়ে হাসপাতালের আইপিএসের ৪টি ব্যাটারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসায়, তদন্ত কমিটি গঠন

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দিরাইয়ে হাসপাতালের আইপিএসের ৪টি ব্যাটারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসায়, তদন্ত কমিটি গঠন

মো: বদরুজ্জামান বদরুল, দিরাই: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবার জন্য ব্যবহৃত আইপিএসের চারটি ব্যাটারি হাসপাতালের পরিবর্তে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ দেবাশীষ রায়ের বাসায় রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হাসপাতালের বাইরে থাকার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি সম্পদের সংরক্ষণ, ব্যবহার ও তদারকি নিয়ে।

অভিযোগ অনুযায়ী হাসপাতালের আইপিএস ব্যবস্থার চারটি ব্যাটারি বর্তমানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসায় রয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জরুরি সেবা সচল রাখতে যেসব সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা, সেগুলো কী কারণে হাসপাতালের বাইরে কর্মকর্তার বাসায় নেওয়া হয়েছে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।

হাসপাতালের আইপিএসের ব্যাটারি যদি সত্যিই কর্মকর্তার বাসায় নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা কার অনুমোদনে নেওয়া হয়েছে অথবা নেওয়ার বিধান রয়েছে কি? এবং সরকারি কোনো নথিতে এর উল্লেখ রয়েছে কি না। সরকারি সম্পদ কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ফলে হাসপাতালের নামে থাকা সরঞ্জাম হাসপাতালের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন, স্টক রেজিস্টার, ইস্যু রেজিস্টার এবং ব্যবহারের কারণ থাকার কথা। এসব নথি যাচাই না হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে না। রোগীর সেবা নাকি ব্যক্তিগত সুবিধা বড় প্রশ্ন জনমনে ? ভাটি অঞ্চলের উপজেলা সদর থেকে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে এমনিতেই জনগণের কষ্ট হচ্ছে এর মধ্যে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন- বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আইপিএসের মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখতে অতীব প্রয়োজনীয়। এ অবস্থায় হাসপাতালের আইপিএসের ব্যাটারি যদি দীর্ঘ সময় হাসপাতালের বাইরে থাকে, তাহলে সেটি রোগীসেবায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যাটারি যদি হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে তা কর্মকর্তার বাসায় কেন? সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাসায় রাখার অনুমোদন থাকার কথা নয় সেটা কোন ভাবেই বৈধতা থাকতে পারে না বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হাসপাতালের স্টক রেজিস্টার, আইপিএস ও ব্যাটারি ক্রয়ের নথি, ইস্যু রেজিস্টার, রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাটারিগুলো বর্তমানে কোথায় রয়েছে, কোন উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছে এবং হাসপাতালের কাজে সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অনিয়মের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি সম্পদ যথাস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে ম্যাসেজ ও কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তাঁর বক্তব্য কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিভিল সার্জন মহোদয়ের মাধ্যমে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।