
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার তরুণ কর্মী সাইফুল ইসলাম (২৫) ধর্মীয় চরমপন্থীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। সমকামীদের (LGBTQ+) অধিকারের পক্ষে কথা বলায় তাকে অপহরণ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্বরোচিত নির্যাতনের বিবরণ:
ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও ছবি থেকে দেখা যায়, তার শরীরে বিশেষ করে পায়ে এবং শরীরের নিচের অংশে ভয়াবহ আগুনের পোড়া দাগ (Burn Scars) রয়েছে। ২০২১ সালে অপহরণের পর চরমপন্থীরা তাকে একটি চেয়ারে বেঁধে রেখে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাইফুল জানান, “তারা আমার চোখের সামনেই আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আগুনের শিখায় আমার পা এবং শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো ঝলসে যেতে থাকে। পায়ের গভীর ক্ষতগুলো আজও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি বহন করছে।” মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গেছে, নির্যাতনের সময় তার কানে প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তিনি শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন (Hearing Loss)। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ট্রমায় তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটেছে।
পায়ের জখম ও টর্চারের প্রমাণ:
সাইফুলের পায়ে থাকা গভীর পোড়া দাগগুলো প্রমাণ করে যে তাকে অত্যন্ত কাছ থেকে আগুনের শিখা বা কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বেঁধে রেখে এভাবে শরীরে আগুন দেওয়া সরাসরি ‘Torture’ বা নির্যাতনের শামিল।
বর্তমান পরিস্থিতি:
হামলাকারীরা সাইফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরটি পুড়িয়ে দিলেও তিনি কোনোমতে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর, ক্রমাগত হুমকির মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে (UK) আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, সাইফুলের শরীরে থাকা ক্ষতচিহ্ন এবং মেডিকেল রিপোর্টগুলো তার ওপর হওয়া পরিকল্পিত নির্যাতনের অকাট্য প্রমাণ।
বাংলাদেশে এই ধরণের অধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।