
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কালার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর ২০২৫ সালের শুরু থেকে তিনি আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রাখেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কামাল হোসেন বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন এবং তার অনুসারীদের নিয়ে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, অতীতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আতাত করে দ্রুত দল পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কামাল হোসেনের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পেছনে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মো. ফয়জুল করিম ময়ূনের প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তারা দাবি করেন, ময়ূন ও কামাল হোসেনের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের কারণেই তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় ও সমর্থন পাচ্ছেন বলে অনেকের ধারণা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন হলেও কামাল হোসেনের সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রভাব কমেনি। বরং নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের মাধ্যমে তিনি এলাকায় তার পূর্বের নেটওয়ার্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এর ফলে অনেক সাধারণ মানুষ এখনও তার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি আসন্ন মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়বেন বলেও জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন, মো. ফয়জুল করিম ময়ূন কিংবা সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করেন, রাজনৈতিক দলের পরিবর্তনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো ব্যক্তি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সকল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।