• ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজনৈতিক আক্রোশের জেরে জুড়ীতে সাবেক নারী জনপ্রতিনিধির পরিবারে তাণ্ডব: ছাত্রলীগ নেত্রীকে বর্বরোচিত নির্যাতন

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি জুড়ী: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাবেক নারী জনপ্রতিনিধির পরিবারের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, হুমকি এবং সবশেষে এক তরুণী রাজনৈতিক কর্মীর ওপর বর্বর শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে | ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, তীব্র নিরাপত্তা সংকটের মুখে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এখনো কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি তারা | বর্তমানে আহতরা সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন |

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই জুড়ী উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিবুন কানম-এর পরিবারের ওপর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চড়াও হয়. রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিহিংসা থেকে প্রথমে তাদের বাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় |

চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পরিবারটি প্রথমে কুলাউড়া উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে এক সপ্তাহ আশ্রয় নেয় | কিন্তু সেখানেও অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি ধেয়ে আসলে গত ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তারা বাধ্য হয়ে নোয়াখালী জেলায় গিয়ে আত্মগোপন করেন |

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে দীর্ঘ তিন মাস পর, গত ১৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে পরিবারটি জুড়ীর নিজ বাড়িতে ফিরে আসে | কিন্তু বাড়িতে পা রাখতেই গত ২৪ নভেম্বর তাদের ওপর পুনরায় সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় |

পরিবারের অভিযোগ, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কন্যা তথা ছাত্রলীগ নেত্রী শেখ নাসরিন সুলতানা আগামীতে উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন | তার এই রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে চিরতরে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই হামলা চালানো হয় এবং তার উপর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় |

নেপথ্যে যারা:
ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহমান ও তার কর্মীরা এই পুরো বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন চক্র পরিচালনা করেছে. হামলায় গুরুতর জখম হওয়া সদস্যদের উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে |

প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে উদ্বেগ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ বা কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি. বর্তমানে চরম সামাজিক ও মানসিক অবমাননা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা | ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরাও |